shono
Advertisement
North Bengal

শুভেন্দুকে নিয়ে কেন জুম্মাগছ সীমান্তই পরিদর্শনে শাহ? জানেন, এই এলাকার গুরুত্ব কতটা

শনিবার সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে একগুচ্ছ ঘোষণা করেছেন শাহ। যার মধ্যে রয়েছে চিকেনস নেককে ঘিরে একাধিক আউটপোস্ট তৈরি।
Published By: Kousik SinhaPosted: 04:34 PM Jul 19, 2026Updated: 04:34 PM Jul 19, 2026

পাখির চোখ ‘চিকেনস নেক’ অর্থাৎ ‘শিলিগুড়ি করিডরে’র নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। সেদিকে নজরে রেখেই শনিবার দফায় দফায় বিএসএফ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অমিত শাহ। তাও আবার কিনা উত্তরবঙ্গে বসে। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে দেখেন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জুম্মাগছ এলাকা। যেটি কিনা জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়ি এলাকার ছোট্ট একটি গ্রাম। সেখানে সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি বিএসএফের আউটপোস্ট পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে বিএসএফ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। কিন্তু 'চিকেনস নেক' সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় এত আউটপোস্ট থাকতে কেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিদর্শনের জন্য জুম্মাগছ বেছে নেওয়া হয়েছে?

Advertisement

শাহের ঘোষণা, রাজ্যে দশটি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট তৈরি হবে। তার মধ্যে দু’টি উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারে হবে। পাশাপাশি নদী এলাকায় স্মার্ট ভার্চুয়াল ফেন্সিং এবং উন্নত থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জুম্মাগছ গ্রামটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এখান থেকে সরাসরি রাবভিটার দূরত্ব মাত্র আড়াই কিলোমিটার। এই অঞ্চলের সবথেকে বড় মাথাব্যথার কারণ মহানন্দা নদী। নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও উন্মুক্ত। বর্ষাকালে নদীপথে বাংলাদেশ থেকে খুব সহজেই যে কোনও এলাকায় অনায়াসে ঢুকে পড়ার একটা বড় ঝুঁকি থাকে। শুধু তাই নয়, 'চিকেনস নেক' অর্থাৎ শিলিগুড়ি করিডরে'র বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিএসএফ, আইটিবিপি-সহ একাধিক বাহিনীর ছাউনি। ফলে মহানন্দার নদীর বিস্তীর্ণ এলাকা উন্মুক্ত থাকায় খুব সহজেই এই সমস্ত এলাকায় পৌঁছে যাওয়া সহজ। সেই সমস্যা তুলে ধরতেই শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জুম্মাগছে নিয়ে যাওয়া হয় বলে খবর। 

তবে এই বিষয়ে বিএসএফের পদস্থ কর্তাদের কেউ মুখ না খুললেও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলির লাইফলাইন। ওই কারণে নতুন বিওপি ও ত্রিস্তরীয় ফেন্সিংয়ের মাধ্যমে সীমান্তকে সম্পূর্ণ অভেদ্য করে তোলা হচ্ছে। ওপারে চিনের পরিকাঠামো বৃদ্ধির পাল্টা হিসেবে ভারতের এই পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। সম্প্রতি বাংলাদেশে তিস্তা নদীতে ব্যারাজ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে চিনা ইঞ্জিনিয়ার ও কারিগরি কর্মীদের গতিবিধি বেড়েছে৷ ওই এলাকা ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর পাল্টা হিসেবে দিল্লি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা বলয়কে আরও নিশ্ছিদ্র করা প্রয়োজন।

যদিও শনিবার সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে একগুচ্ছ ঘোষণা করেছেন শাহ। যার মধ্যে রয়েছে চিকেনস নেককে ঘিরে একাধিক আউটপোস্ট তৈরি। শাহের ঘোষণা, রাজ্যে দশটি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট তৈরি হবে। তার মধ্যে দু’টি উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারে হবে। পাশাপাশি নদী এলাকায় স্মার্ট ভার্চুয়াল ফেন্সিং এবং উন্নত থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জলপথেও যাতে ‘পাখি গলার’ সুযোগ না থাকে সেজন্যেই এহেন ব্যবস্থা বলেই মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সীমান্ত এলাকায় স্মার্ট ফেন্সিং বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement