হাতির দলকে ঠেকাতে, জমির ফসল বাঁচাতে গ্রামবাসীদের অস্ত্র বাদ্যযন্ত্র! সঙ্গে গান। অবাক হচ্ছেন শুনে! হ্যাঁ, হাতির হানা থেকে ফসল বাঁচাতে গ্রামের মানুষ রাতের পর রাত জেগে বাজনা বাজাচ্ছেন। আগুন জ্বেলে অনেকটা ক্যাম্প ফায়ারের মতো হাতে বাদ্য যন্ত্র নিয়ে বাজাচ্ছেন। সঙ্গে কোমর দুলিয়া নাচ। যা একেবারেই অন্য ছবি লালগড়ে।
সাম্প্রতিক গত বুধবার লালগড় রেঞ্জের রেঞ্জারকে ঘেরাও করে স্থায়ী ভাবে হাতি তাড়ানো, ফসলের ক্ষতিপুরনের দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
দিনের আলো ফোটার আগেই মাঠে ঢুকে পড়ছে হাতির দল। তছনছ করে দিচ্ছে বিঘার পর বিঘা জমির ধান। তাই ফসল বাঁচাতে রাতের পর রাত ঘুম ছুটেছে লালগড় রেঞ্জের ভাউদি বিটের আজনাশুলি, তালডাঙ্গা মৌজার কৃষকদের। হাতির হানার আশঙ্কায় সন্ধ্যা নামলেই মাঠের দিকে বেরিয়ে পড়ছেন গ্রামের মানুষজনেরা। কারও হাতে মশাল, কারও হাতে টর্চ। সঙ্গে থাকছে ঢাক ঢোল, কাঁসর বা বিভিন্ন ধরনের বাজনা। শব্দ আর এলাকা আলোকিত করে হাতির দলকে ফসলের জমি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে বাসিন্দারা। স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, ভাউদি বিটের আজনাশুলি, তালডাঙ্গা মৌজা, মধ্যমকুমারী, খাঁকড়িদাড়া-সহ বিভিন্ন গ্রামে ১২০ থেকে ১৩০ টি হাতির একটি দল তান্ডব চালিয়ে বিঘার পর বিঘা জমির ধান খেয়ে, পায়ে মাড়িয়ে তছনছ করছে বলে অভিযোগ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দশ বারো দিন ধরে এই হাতির দলটি আজনাশুলি এলাকায় তান্ডব চালাচ্ছে। বনদপ্তরকে একাধিকবার আবেদন নিবেদন করার পরেও হাতি তাড়ানোর কোনও রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বনদপ্তর। আর তাই হাতি তাড়াতে বাদ্যযন্ত্রকেই হাতিয়ার করেছেন এই গ্রামের বাসিন্দারা।
উল্লেখ্য সাম্প্রতিক গত বুধবার লালগড় রেঞ্জের রেঞ্জারকে ঘেরাও করে স্থায়ীভাবে হাতি তাড়ানো, ফসলের ক্ষতিপুরনের দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বনদপ্তরের দাবি, হাতি দলকে ড্রাইভ করানোর চেষ্টা করা হলেও এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার, জল থাকায় হাতির দলটি এলাকা ছেড়ে যেতে চাইছে না। স্থানীয় কৃষকদের বক্তব্য সারা বছরের পরিশ্রমের পর এই ধানই তাঁদের সংসারের ভরসা। হাতির দল এক রাতেই সেই ফসল নষ্ট করে দিলে শুধু জমির ক্ষতি হয় না, অনিশ্চিত হয়ে পড়ে পরিবারের ভবিষ্যৎও। তবে বনদফতর জানিয়েছে যাদের ফসল নষ্ট করেছে তাদের প্রত্যেককে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
