বারুইপুর বিস্ফোরণ কাণ্ডে বর্তমানে এনআইএ হেফাজতে তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লা (Saokat Molla)। এই পরিস্থিতিতে দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠায় নতুন করে বিপাকে তিনি। সেই মামলায় শওকতকে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বারুইপুর মহকুমা আদালত। মঙ্গলবার ভাঙড় থানার বাইরে চেয়ার-টেবিল পেতে বসে শওকতকে জেরা করল পুলিশ আধিকারিকরা। যার কথায় এলাকায় বাঘে-গরুতে কার্যত এক ঘাটে জল খেত, তাঁর এই করুণ পরিণতি দেখতে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল। অভিযোগ, ওইদিন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এলাকার বাসিন্দা খুরশিদ আলমের বাড়ি ও দোকানে ঢুকে ভাঙচুর চালায় শওকতের শাগরেদরা। দোকানের মূল্যবান সামগ্রীও লুট করা হয় বলে অভিযোগ। তার দু’মাস পর ১৮ জুন বোদরা বাজারে থাকা ওই ব্যবসায়ীর দোকান থেকে প্রায় ৮ লক্ষ টাকার মালপত্র লুঠ করা হয় এবং গাড়ি দিয়ে দোকান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ১২ জুলাই বোদরা থানায় শওকত-সহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়।
সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই মুহূর্তে ভাঙড় থানায় রয়েছেন শওকত। আদালতের নির্দেশ মেনে সোমবার রাতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয় জেরাপর্ব। থানায় জেরার ঘটনা একেবারেই নতুন নয়। তবে শওকত কে যেভাবে জেরা করা হচ্ছে, তার সঙ্গে পরিচিত নয় বাংলাবাসী। এদিন থানার বাইরে চেয়ার টেবিল পেতে বসেন পুলিশ কর্তারা। বসানো হয় শওকতকে। সেখানেই চলে জেরাপর্ব। বাইরের কেউ যাতে ছবি তুলতে না পারেন, তার জন্য গাড়ি অন্য রাস্তা দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এলাকাবাসীর কৌতুহল মেটানোর সাধ্যি কার! দাপুটে নেতাকে একনজর দেখতে ভিড় থানার বাইরে।
