shono
Advertisement
Purna Das Baul

তৃণমূল আমলে দখল করেছিলেন অনুব্রতরা! পালাবদলের পর জমি ফিরে পেতে জেলাশাসকের দ্বারস্থ পূর্ণদাস বাউল

বীরভূমের ইলামবাজারে চার বিঘা জমি রয়েছে পদ্মশ্রী ও রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিল্পী পূর্ণদাস বাউলের। অভিযোগ, সেই জমি দখল হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার মদতে এই জমি দখল হয়েছে বলে অভিযোগ।
Published By: Suhrid DasPosted: 06:10 PM Aug 18, 2026Updated: 06:31 PM Aug 18, 2026

বীরভূমের ইলামবাজারে চার বিঘা জমি রয়েছে পদ্মশ্রী ও রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত শিল্পী পূর্ণদাস বাউলের (Purna Das Baul)। অভিযোগ, সেই জমি দখল হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার মদতে এই জমি দখল হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল সরকারের আমলে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল হয়নি! রাজ্যের পালাবদলে বিজেপি সরকারের আমলে ওই জমি ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন শিল্পী পূর্ণদাস বাউল ও তাঁর ছেলে দিব্যেন্দু দাস বাউল। আজ, মঙ্গলবার বীরভূমের জেলাশাসকের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা।

Advertisement

শিল্পীদের তরফে জানা গিয়েছে, ইলামবাজারের কামারপাড়া এলাকায় তাঁদের প্রায় চার বিঘা জমি রয়েছে। কিন্তু ২০০৬ সাল থেকে ধাপে ধাপে ওই জমি দখল হতে শুরু করে! তৃণমূল আমলে সেই জমি দখল করে কংক্রিটের দোকান, ঘর ও আবাসন তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল সরকারের আমলে সেই জমি পুনরুদ্ধারের জন্য বহুবার শিল্পীদের তরফে বীরভূম জেলা প্রশাসনের তরফে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া তো কোন ছাড়, শিল্পীদের অনুব্রত মণ্ডলদের সঙ্গে কথা বলার জন্য আধিকারিকরা পরামর্শ দিয়েছিলেন! 

সেই পরামর্শ মেনে সেসময়ের তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার সঙ্গে শিল্পী পূর্ণদাস বাউলরা দেখাও করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ কোনওভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি! উলটে শিল্পীরা তো সেখানে যান না, এমনই বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ফলে বারে বারে বীরভূম থেকে কলকাতা ফিরে আসতে হয়েছে শিল্পীদের। এদিকে দখল হওয়া জমিতে নির্মাণকাজ চলতে থাকে! অভিযোগ, প্রায় চার বিঘা জমি দীর্ঘদিন ধরে সুকুল টুডু নামে এক ব্যক্তি দখল করে রেখেছেন। বারবার চেষ্টা করেও সেই জমি উদ্ধার সম্ভব হয়নি। 

দিব্যেন্দু দাসের অভিযোগ, তৃণমূল আমলে অনুব্রত মণ্ডল ও চন্দ্রনাথ সিংহের কথা ছাড়া বীরভূমে একটা পাতাও নড়ত না। তাঁদের মদতেই জমি দখল হয়েছে। জমি দখলের ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে।

১৯৭৭ সালে ইলামবাজার থানার কামারপাড়া মৌজায় রাস্তার ধারে চার বিঘা জমি কিনেছিলেন পূর্ণদাস বাউল। সুকুল টুডুর কাছে জমির কোনও আসল কাগজপত্র আছে কিনা, তাও দেখতে চাওয়া হয়েছিল শিল্পীর তরফে। কিন্তু ওই ব্যক্তি সামনেই আসেননি! ২০২১ সালেও শিল্পীরা ইলামবাজারে গিয়েছিলেন জমি উদ্ধারের জন্য। কিন্তু শূন্য হাতেই ফিরে আসতে হয়েছিল! দিব্যেন্দু দাসের অভিযোগ, তৃণমূল আমলে অনুব্রত মণ্ডল ও চন্দ্রনাথ সিংহের কথা ছাড়া বীরভূমে একটা পাতাও নড়ত না। তাঁদের মদতেই জমি দখল হয়েছে। জমি দখলের ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। বীরভূমের জেলাশাসক থেকে শুরু করে বোলপুরের মহকুমাশাসক, ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের দপ্তর ও ইলামবাজার থানায় এই নিয়ে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন বর্ষীয়ান এই শিল্পী।

এদিন বীরভূমের জেলাশাসকের দপ্তরে ৯১ বছরের শিল্পী পূর্ণদাস বাউল হুইল চেয়ারে বসে উপস্থিত ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন ছেলে দিব্যেন্দু দাস বাউল। জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের কাছে। পূর্ণদাস বাউল জানান, জমিটি দখলমুক্ত হলে সেখানে বাউল সংস্কৃতি ও বাউলদের শিক্ষার প্রসারে কাজ করা হবে। দিব্যেন্দু দাস বাউল জানিয়েছেন, জমি ফিরে পেলে শিল্পীর জীবনকালে অর্জিত পুরস্কার-সম্মান রাখার গ্যালারি তৈরি হবে। মানুষ শিল্পীকে জানতে সেখানে আসতে পারবেন।

 

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement