শান্তনু কর, জলপাইগুড়ি: নিয়মিত ঘুম ভাঙে ভোর পাঁচটায়। ব্যতিক্রমী ছিল শনিবারের সকাল। ঘুম ভাঙল নির্ধারিত সময় থেকে চার ঘণ্টা পরে। ঘুম থেকে উঠে যা দেখলেন ধূপগুড়ির মাস্টার কোয়ার্টার পাড়ার কাঞ্চন বসু, তাতে চক্ষু চড়কগাছ! পাশের ঘরে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন স্ত্রী। গোটা বাড়ি তছনছ। উধাও পরিচারিকা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় শোরগোল পরে যায় ধূপগুড়ি শহরে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় ধূপগুড়ি থানার পুলিশ। যদিও সন্ধ্যা পর্যন্ত রহস্যজনক ভাবে নিরুদ্দেশ পরিচারিকার হদিশ পায়নি পুলিশ। তবে পুলিশ নিশ্চিত, চুরির মতলব নিয়েই পরিচারিকার কাজে যোগ দিয়েছিল মঞ্জু সাহা নামে মাঝবয়সি ওই মহিলা। নামটিও যে তার ভুয়ো প্রাথমিক তদন্ত শেষে এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে পুলিশের বক্তব্য, অচেনা কাউকে কাজে রাখার আগে পরিচয় খতিয়ে দেখার কথা বারবার বলা হলেও মানুষজন যে সতর্ক হননি এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করল।
[বেলডাঙায় শৌচাগার তৈরিতে জামাইয়ের পাশে দাঁড়ালেন শ্বশুর]
শুক্রবার রাত দশটা নাগাদ খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন বসু দম্পতি। খাবার পরিবেশন করে মঞ্জু নামে ওই পরিচারিকা। কিন্তু খাবারের সঙ্গে যে মাদক মেশানো ছিল তা বুঝে উঠতে পারেননি তাঁরা। সকালে উঠে দেখেন সোনাদানা, নগদ টাকা সব উধাও। বেপাত্তা পরিচারিকাও। জানা গিয়েছে, মাস খানেক আগে পণ্যপরিবহণ ব্যবসায়ী কাঞ্চনবাবুর বাড়িতে পরিচারিকা হিসেবে কাজে যোগ দেন মাঝবয়সি ওই মহিলা। নিজেকে সহায়সম্বলহীন বলে পরিচয় দেয় সে। মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর স্বামী-স্ত্রী দু’জনের সংসার কাঞ্চনবাবুর। স্ত্রী শারীরিক ভাবে অসুস্থ থাকায় পরিচারিকা পেয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে ছিলেন তিনি। কাঞ্চনবাবু জানান, “নানা ব্যস্ততায় সত্যতা যাচাই করা হয়ে ওঠেনি। আর সেটাই যে এত বড় সর্বনাশ ডেকে আনবে কে জানত!”
[বেলডাঙায় শৌচাগার তৈরিতে জামাইয়ের পাশে দাঁড়ালেন শ্বশুর]
ধূপগুড়ি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত জানান, “পরিচারিকার বেশে চুরির উদ্দেশ্য নিয়েই যে মহিলা কাজে যোগ দিয়েছিল তা এক প্রকার স্পষ্ট। মহিলার খোঁজ চলছে।” সম্ভবত বাইরে থেকেই এসেছে সে। কারণ যে এলাকায় আত্মীয় রয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানে এই নামে কোনও মহিলাকে পায়নি পুলিশ। এব্যাপারে জেলার বিভিন্ন থানার পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে ধূপগুড়ি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন।
The post ঘুম ভাঙতেই উধাও সোনা-নগদ! মাদক খাইয়ে সর্বস্ব লুট করে বেপাত্তা পরিচারিকা appeared first on Sangbad Pratidin.
