নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় একাধিক মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের নাম বাদ পড়েছে! এমনকী বহু নাম রয়েছে 'বিচারাধীন' অবস্থায়। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ এবং আতঙ্ক। এমনকী দেশছাড়ার আতঙ্কও তাড়া করছে বহু মতুয়াদের মধ্যে। এর মধ্যেই আগামী ১৭ই মার্চ অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে মতুয়া ধর্ম মহামেলা। কিন্তু হতাশা থেকেই কার্যত সেই মেলা থেকে অনেক মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষই মুখ ঘোরাচ্ছেন! তাঁদের কথায়, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে৷ ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে কিনা জানি না। এই অবস্থায় মেলায় যাওয়ার ইচ্ছা নেই। এর মধ্যেই আজ শনিবার ভোটমুখী বাংলায় ব্রিগেডে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi Rally)। সেই মঞ্চ থেকেও এদিন তেমন কোনও ঘোষণা নেই! যাতে আরও আশাহত মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন। এই অবস্থায় অনেকে মেলায় গেলেও এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুরের কাছে জবাব চাইবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
মতুয়া ধর্ম মহামেলা উপলক্ষে গাইঘাটা ঠাকুরনগরে মতুয়া ঠাকুর বাড়ি সেজে উঠেছে৷ মেলার মাঠে দোকানপাট বসতে শুরু করেছে ৷ পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকেরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছে। এবার ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে থাকা তিনটি অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ একসঙ্গে মেলার আয়োজন করেছে। শুধু তাই নয়, তিনটি অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহা সংঘের পক্ষ থেকে মেলা উপলক্ষে একত্রে লাল নিশানা উত্তোলন করা হয়েছে। তাতে খুশি সেখানকার মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের কথায়, এটাই তো চেয়েছিলাম। কিন্তু একদিকে আনন্দ থাকলেও, অন্যদিকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ায় বহু মতুয়াই হতাশ। এবার মেলায় যাওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন।
যেমন গণেশ বাইন। এসআইআরের পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নাম বাদ পড়েছে। এরপর থেকে কার্যত রাতের ঘুম উড়েছে গণেশবাবুর। তিনি বলেন, ''ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে ৷ ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে কিনা জানি না৷ মন ভালো নেই৷ তবুও এবার মেলায় গিয়ে কামনা সাগরে পুণ্য স্নান করবো ৷ ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করব যেন ভোটার তালিকায় নাম উঠে যায়।'' তবে অনেকেই যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা এবার যেতে চান না ৷ তাদেরই একজন অনিরুদ্ধ বিশ্বাস বলেন, ''মন ভালো নেই। তাই এবার মেলায় যাওয়ার কোনও ইচ্ছা নেই৷'' তবে যাদের নাম উঠেছে তাঁদের মনে উৎসাহ প্রচুর৷ তাদের মধ্যে শান্তনু গাইন বলেন, ''প্রতিবারের মতো এবারও মহামেলায় যাব৷ আশা করছি, কোন গোলমাল ছাড়াই এবার পুজো দিতে পারব৷''
তিনি বলেন, ''ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে ৷ ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে কিনা জানি না৷ মন ভালো নেই৷ তবুও এবার মেলায় গিয়ে কামনা সাগরে পুণ্য স্নান করবো ৷ ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করব যেন ভোটার তালিকায় নাম উঠে যায়।'' তবে অনেকেই যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁরা এবার যেতে চান না ৷
তবে অনেক ভক্তই ঠাকুরবাড়িতে যাবেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের কাছে জবাবদিহি চাইতে৷ কারণ শান্তনু ঠাকুর তাঁদের আশ্বাস দিয়েছিলেন ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকবে৷ কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। বহু মতুয়ার নাম বাদ পড়েছে! এই অবস্থায় তাঁদের প্রশ্ন, কেন আমাদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হল ৷ ঠাকুরবাড়ির সন্তানদের কাছ থেকে এটা আশা করিনি ৷ ওনার কাছে সঠিক উত্তর না পেলে আমরা রাস্তায় নামব৷ বলে রাখা প্রয়োজন, তিনটি মতুয়া মহাসংঘের সদস্যদের নিয়ে একটি যৌথ কমিটি তৈরি করা হয়েছে। একটি অল ইন্ডিয়ার মতুয়া মহাসংঘের সঙ্গে নেতৃত্ব রয়েছে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুর ৷ আরেকটি অল ইন্ডিয়ার মতুয়া মহাসংঘের নেতৃত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ৷ তৃতীয় অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহা সংঘের নেতৃত্বে রয়েছেন গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর ৷
বছরভর রাজনৈতিক আকচা আঁকচি তিনটি সংগঠনের মধ্যে লেগেই থাকে ৷ এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে সুব্রত ঠাকুরের সঙ্গে ভাই শান্তনু ঠাকুরের বিবাদ ও প্রকাশ্যে এসেছিল নাট মন্দিরে সিএএ সহায়তা ক্যাম্প তৈরি করাকে কেন্দ্র করে৷ গতবছরও মেলার আয়োজন কারা করবে সেই বিষয় পৌঁছেছিল হাইকোর্ট পর্যন্ত ৷ তার আগের বছর মহামেলা চলাকালীন ব্যাপক অশান্তির ছড়িয়েছিল ঠাকুরবাড়ি চত্বরে ৷ অভিযোগ উঠেছিল শান্তনু ঠাকুর জোর করে বড়মা বীণাপাণি দেবীর ঘরে তালা দিয়ে দেয় ৷ গোলমালের জেরে মেলায় আসা মতুয়া ভক্তরা দ্রুত বাড়ি ফিরে গিয়েছিলেন ৷ ব্যবসায়ীরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন ৷ তারপর থেকেই মতুয়া ভক্তরা দাবি করেছিলেন একসঙ্গে মেলা করলেই তারা যাবেন ৷ সেই দাবি মেনেই তিনটি মতুয়া মহাসংঘ একত্রে এবার মেলা করা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ৷
