ফের এসআইআর (SIR in West Bengal)-এর বলি। এবার, মুম্বইয়ে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিককে এসআইআর শুনানির নোটিস। বাংলায় তাঁর বাড়িতে আসা নোটিশের খবর, ফোনে পান তিনি। এখুনি কাজ ছেড়ে ফিরতে পারবেন না এই ভাবনায় উদ্বিগ্ন হয়ে মুম্বইয়েই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ওই শ্রমিকের।
এসআইআর (SIR in West Bengal) আতঙ্কে ফের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) মথুরাপুরের এক পরিবারে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মুম্বইয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে যাওয়া মৃত যুবক সাবির হোসেন বেপারী। তাঁর বয়স ৩৫ বছর।
পরিবারের দাবি, বাড়িতে তাঁর নামে এসআইআর-এর শুনানির নোটিস আসায় ফোনে তাঁকে জানানো হয়। শুনানি কেন্দ্রে কিভাবে হাজির হবেন তা ভেবে আতঙ্কিত হয়ে মুম্বইয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মথুরাপুর -১ নম্বর ব্লকের আবাদ ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভগবানপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবির হোসেন বেপারী। তিনি মুম্বইয়ে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে জরির কাজ করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি ছিলেন সাবির। তাঁর মৃত্যুর খবর শোনামাত্রই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
মৃতের পিতা জালাল উদ্দিন বেপারীর নাম ২০০২ এর ভোটার তালিকায় থাকলেও এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি দেওয়া সত্ত্বেও সাবির হোসেনকে শুনানির নোটিস দেওয়ায় ক্ষুব্ধ গোটা পরিবার। মৃতের বাবার দাবি, "মুম্বইয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে রয়েছে ছেলে। শুনানির নোটিস আসার কথা তাকে জানাতেই কাজ ছেড়ে কিভাবে বাড়ি ফিরবে তা নিয়েই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল সাবির। শেষ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়ে মুম্বইতেই হৃদরোগে মৃত্যু হল আমার ছেলের।"
তিনি বলেন, "আমার ছেলের মৃত্যুর দায় নিতে হবে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই।" এদিকে সাবিরের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছতেই পরিবারের পাশাপাশি প্রতিবেশীরাও ক্ষোভপ্রকাশ করে জানান, এই মৃত্যুর জন্য কেন্দ্রের সরকার ও নির্বাচন কমিশনই দায়ী।
