রাতের ঝাড়গ্রামে এখন নয়া সংযোজন সাইরেনের শব্দ! সন্ধ্যা নামলেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় বাজছে এই শব্দ। তা বাজলেই স্থানীয়দের চোখেমুখে আতঙ্ক! কোথায় আবার কী ঘটল! ভাবছেন তো ব্যাপারটা কী? সম্প্রতি রাতের ঝাড়গ্রামে নজরদারিতে বিশেষ মোটরবাইকে পুলিশের টহলদারি গাড়ি নিয়ে শুরু হয়েছে ‘সাইরেন মোবাইল’-এর নজরদারি। লক্ষ্য, রাতের শহরে সমাজবিরোধীদের দাপট কমিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা। গত রবিবার থেকে জেলা পুলিশের বিশেষ এই পরিষেবা শুরু হয়েছে। যা প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে শুরু হয়ে চলছে সারা রাত।
পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের দাবি, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র অপরাধ দমন নয়, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা।
জেলার পুলিশ সুপার মানব সিংলা বলেন, ''শহরের কয়েকটি এলাকায় রাতে অকারণ জমায়েত ও সমাজবিরোধীদের আড্ডার খবর আমাদের কাছে আসছিল। এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই বিশেষ ‘সাইরেন মোবাইল’ চালু করা হয়েছে। আপাতত ঝাড়গ্রাম শহরেই এই পরিষেবা শুরু হয়েছে।'' প্রয়োজনে জেলার অন্যান্য জায়গাগুলিতেও এই টহলদারি শুরু হবে বলেও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই বিশেষ টহলদারিতে রয়েছে সাইরেন-যুক্ত দুটি মোটরবাইক এবং দুটি চারচাকা পুলিশের গাড়ি। চারচাকা গাড়িগুলিতে রয়েছে সাইরেনের ব্যবস্থা রয়েছে। পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী কখনও দুটি বাইক একসঙ্গে, কখনও আবার আলাদা আলাদাভাবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে। প্রয়োজনে চারচাকা টহল গাড়ির সঙ্গে সমন্বয় রেখেও অভিযান চালানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এর ফলে কম সময়ে শহরের বৃহত্তর অংশে নজরদারি চালানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে জেলা পুলিশ।
পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের দাবি, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র অপরাধ দমন নয়, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা। শহরের বিভিন্ন মোড়, বাজার এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন চত্বর, পার্ক সংলগ্ন এলাকা, নির্জন রাস্তা এবং যেসব জায়গায় রাতের বেলা অকারণ আড্ডা বা জমায়েতের অভিযোগ বেশি, সেগুলিই থাকবে বিশেষ নজরদারির আওতায়। সাইরেন বাজিয়ে টহল দেওয়ার ফলে পুলিশের উপস্থিতি অনেক দূর থেকেই টের পাওয়া যাবে। পুলিশের আশা, এর ফলে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং রাতের বেলা অকারণে রাস্তায় জটলা করার প্রবণতাও কমবে।
জেলা পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, টহল চলাকালীন প্রয়োজনে কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযানও চালানো হবে। ওয়ারেন্টভুক্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি কিংবা অভিযোগ পেলেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও এই বিশেষ টহল বাহিনীকে কাজে লাগানো হবে। পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়িয়ে অপরাধ দমনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়ানোই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার আরও জানিয়েছেন, আপাতত এই ব্যবস্থা ঝাড়গ্রাম শহরেই চালু হয়েছে। তবে এর কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে এবং প্রয়োজনীয় সংস্থান থাকলে আগামী দিনে জেলার অন্যান্য থানাতেও ধাপে ধাপে ‘সাইরেন মোবাইল’ পরিষেবা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। জেলা পুলিশের আশা, রাতের শহরে এই নতুন উদ্যোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
