দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: একটু বেশি অর্থ উপার্জনের আশা করেছিলেন তাঁরা। তাই মুম্বইয়ের চাকরি ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন সৌদি আরবে। তবে তাতেও আর্থিক সমস্যা মিটল না। পরিবর্তে তিন বছর ধরে বন্দিদশায় দিন কাটাচ্ছেন ২১জন ভারতীয় যুবক। ওই যুবকদের আবারও ঘরে ফিরিয়ে আনা হোক, এমনই আরজি জানিয়েছেন তাঁদের পরিজনেরা।
গৃহবন্দি একুশ জনের মধ্যে একজন মহারাষ্ট্রের থানের বাসিন্দা। বাকি প্রায় সকলেই বাঙালি। তাঁদের মধ্যে দশজন হুগলিতেই বেড়ে ওঠা যুবক। তাঁদের পরিজনরা বলছেন, “বেশ কয়েক বছর ধরে মুম্বইতে সোনা-রূপোর কাজ করছেন ঘরের ছেলে। কিন্তু হঠাৎই অর্থনৈতিক সংকট এদেরকে অনেকটাই অসহায় করে দেয়। তাই সুদূর জেড্ডায় অনেক বেশি টাকা বেতনের প্রলোভন উপেক্ষা করতে পারেননি। শুধুমাত্র পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিদেশে পাড়ি দেয় ওরা। কিন্তু যে সংস্থা তাদের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে গিয়েছিল সেই সংস্থা বিদেশের মাটিতে পা রাখার পরই ভারতীয়দের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও ভিসা কেড়ে নেয়। তারপর থেকেই তারা বিদেশের মাটিতে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছে।”
[আরও পড়ুন: সাংসদের উপস্থিতিতে সংকল্প যাত্রার মঞ্চে দুই বিজেপি নেতার হাতাহাতি, অস্বস্তিতে শীর্ষ নেতৃত্ব]
সম্প্রতি হাওড়ার বাসিন্দা শান্তনু পাল লুকিয়ে কোনওক্রমে ফোনে বাড়ির লোকের সাথে যোগাযোগ করেন। সেই মোবাইল নম্বরে পান্ডুয়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের পরিবার ফোন করে। নজরুলের সঙ্গে কথা বলেন তাঁর পরিজনেরা। এরপর তাদের দুর্গতির কথা জানতে পারেন। নজরুলকে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় জেড্ডায় ন্যাশানাল অ্যান্টি ট্রাফিকিং অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে। সেই মতো অভিযোগ জানান নজরুল। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অভিযোগ খতিয়ে দেখে। বাঙালি যুবকদের অসহায়তার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়ে যায়।
হুগলির ডাঙাপাড়া পাঁচগড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের বাবা নুরুল ইসলাম ও মা পাপিয়া সুলতানা ছেলের ঘরে ফিরে আসার অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার যেন তাঁদের ছেলে-সহ অন্যান্যদের ঘরে ফেরানোর উদ্যোগ নেন সেই আবেদনই করেছেন নজরুলের বাবা-মা।
The post সৌদি আরবে কাজে গিয়ে বিপাকে ২১ জন বাঙালি যুবক, চিন্তিত পরিবার appeared first on Sangbad Pratidin.
