কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠে (Tarapith) ভক্তদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবকে ঘিরে কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই ভিড় সামাল দেওয়ার পাশাপাশি যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত চিহ্নিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারাপীঠজুড়ে সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে ড্রোন উড়িয়ে পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে পুলিশ।
তারাপীঠের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতেও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
সম্প্রতি তারাপীঠে টিআরডিএ-র বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। পরিদর্শনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল ব্যানার্জি, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন, জেলা পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ ভুন্দেস-সহ পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা। পরিদর্শনের সময় মন্দিরে ভক্তদের প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ, ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, যানবাহন চলাচল এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলির নিরাপত্তা নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়। বিশেষ করে কৌশিকী অমাবস্যার সময় বিপুল ভক্ত সমাগমের ফলে যাতে কোনও জায়গায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে আগাম পরিকল্পনা তৈরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কৌশিকী অমাবস্যার সময় রামপুরহাটের মুনসুভা মোড় থেকে তারাপীঠ পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার রাস্তা ড্রোনের আওতায় রাখা হবে। এই পথে কোথাও যানজট তৈরি হচ্ছে কি না, অতিরিক্ত ভিড় জমছে কি না কিংবা কোনও ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে কি না, আকাশপথে তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মীদের পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা করা হবে।
শুধু ড্রোনেই নয়, তারাপীঠের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতেও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। মন্দির চত্বর, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ, ভিড়প্রবণ এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলগুলিতে ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে। অর্থাৎ, একদিকে আকাশপথে ড্রোনের নজরদারি, অন্যদিকে মাটিতে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা—দুই ব্যবস্থাকে সমন্বয় করেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। প্রশাসনের কাছে কৌশিকী অমাবস্যার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল বিপুল জনসমাগম সামলানো। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই সময় তারাপীঠে পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের ঢল নামে। ফলে মন্দিরে দর্শনের পাশাপাশি রাস্তার যান চলাচল, পার্কিং, ভক্তদের চলাচল এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়। অতীতের অভিজ্ঞতাকে মাথায় রেখেই এবার আগেভাগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
প্রশাসনের লক্ষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে কোনও সমস্যা তৈরি হওয়ার আগেই তার আভাস পাওয়া এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। পুলিশ, জেলা প্রশাসন, মন্দির কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় রেখেই কৌশিকী অমাবস্যার প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভক্তরা যাতে নির্বিঘ্নে তারাপীঠে এসে মা তারার দর্শন করতে পারেন এবং উৎসবের দিনগুলিতে গোটা এলাকার পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল থাকে, সেই লক্ষ্যেই নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এবার বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
