অমিত সিংদেও, মানবাজার: জঙ্গলে হনুমানকে পিটিয়ে মেরে ভুরিভোজের প্রস্তুতি। হানা দিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল বনদপ্তর। এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরুলিয়া বনবিভাগের বলরামপুর রেঞ্জের বেড়শা গ্রামের শিকারি পাড়ায়। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম শুকদেব শিকারি, গোপাল শিকারি ও লক্ষণ শিকারি।
প্রথম দু’জনের বাড়ি বলরামপুর থানার বেড়সা গ্রামের শিকারি পাড়ায়। লক্ষণের বাড়ি বাঘমুণ্ডি থানার বাড়েরিয়া গ্রামে। সোমবার ধৃতদের পুরুলিয়া আদালতে তোলা হলে তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজত হয়। পুরুলিয়া বনবিভাগের ডিএফও কার্তিকায়েন এম বলেন, “হনুমানকে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ওয়াইল্ড লাইফ প্রোটেকশন অ্যাক্টে মামলা রুজু করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত মাংস ফরেনসিক টেস্টে পাঠানো হবে।”
[আরও পড়ুন: ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি এখনই বাতিল নয়, সুুপ্রিম স্থগিতাদেশ বহাল হাই কোর্টেও]
রবিবার সকালে একদল যুবক অযোধ্যা পাহাড়ের জঙ্গলে শিকার করতে যায়। পোষ্য সারমেয় দিয়ে ঘিরে ধরে শিকারির ওই দলটি একটি হনুমানকে পিটিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ। পরে তারা ভুরিভোজের প্রস্তুতির জন্য বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ শ্রেণির শিডিউল ২-এ থাকা হনুমানটির মাংস টুকরো টুকরো করছিল। ঠিক ওই সময় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বেড়শা সংলগ্ন অযোধ্যা পাহাড়ে হানা দেয় বনদপ্তরের আধিকারিকরা। পুরুলিয়া ডিভিশনের এডিএফও সায়নী নন্দীর নেতৃত্বে এই অভিযান হয়। সঙ্গে ছিলেন বলরামপুর রেঞ্জের আধিকারিক অপূর্ব মাহান্তি-সহ বেশ কয়েকজন আধিকারিক।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পাহাড়ের কোলে জঙ্গল ঘেরা এলাকায় অভিযুক্তরা বটি, ছুরি নিয়ে মাংস টুকরো টুকরো করছিল।ঘটনাস্থল থেকে বন দফতরের আধিকারিকরা প্রায় পাঁচ কেজি কাটা মাংস, কয়েকটি অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করে। আটক করা হয় ওই তিনজনকে। পরে তাদের বলরামপুর রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে এসে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে ধৃতরা ঘটনার কথা স্বীকার করে বলে বনদপ্তরের দাবি। তারপরেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
