রঞ্জন মহাপাত্র, কাঁথি: ভোটপ্রচারে বেরিয়ে অশান্তির ছড়ানোর অভিযোগ উঠল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। কাঁথির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী সুপ্রকাশ গিরিকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। কাঠগড়ায় বিজেপি নেতার নিরাপত্তারক্ষীরা। যদিও অভিযোগের অস্বীকার করে বিজেপি।
নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে জুতো পরে মন্দিরে ঢুকে পুজো দিতে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের বাধার মুখে পড়লেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার বিকেলে কাঁথি পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড সুপার মার্কেট লাগোয়া এলাকায় বিজেপি প্রার্থী নির্মাল্য দাসের সমর্থনে প্রচারে বেরোন বিরোধী দলনেতা। প্রচার শেষে জুতো পরা অবস্থায় নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে মন্দিরে পুজো দিতে যান শুভেন্দু। তারপরেই তৃণমূলের মহিলা কর্মীরা বাধা দিলে নিরাপত্তারক্ষীরা তেড়ে আসে।
[আরও পড়ুন: ১১ মার্চ বাজারে আসতে পারে LIC’র শেয়ার, দাম জানলে চমকে যাবেন]
তাদের আটকাতে নির্বাচনী ক্যাম্প থেকে ছুটে যান ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী সুপ্রকাশ গিরি। তখনই তাঁকে নিরাপত্তারক্ষীরা আক্রমণ করে বলে অভিযোগ। তাঁর দাবি, ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধস্তাধস্তিও হয়। এ প্রসঙ্গে সুপ্রকাশ গিরি বলেন, “জুতো পরে শুভেন্দু অধিকারী-সহ নিরাপত্তারক্ষীরা মন্দিরে পুজো দিতে গেলে মায়েরা বাধা দেন। তখনই নিরাপত্তারক্ষীরা তেড়ে আসে। আমি তাদের আটকাতে ছুটে যাই। সেই সময় আমার বুকে, পায়ে মারধর করা হয়।” যদিও তৃণমূলের দাবি কার্যত অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, সুপ্রকাশ গিরিকে মারধর করা হয়নি। পরিবর্তে তৃণমূলই তাদের প্রচারে বাধা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার কাঁথির ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কনৌকপুর এলাকায় দলীয় প্রার্থী গোবিন্দ খাটুয়ার সমর্থনে প্রচার করেন শুভেন্দু। সেই সময় তাঁকে ঘিরে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে স্লোগান দিতে থাকেন বেশ কয়েকজন। তার জেরে কার্যত মেজাজ হারান শুভেন্দু। বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। বিক্ষোভকারীদের তিনি বলেন, “এসব কেন করছ? এগুলো করবে না। সবাই নির্বাচনে প্রচার করবে।” তড়িঘড়ি কাঁথি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকা ছাড়েন শুভেন্দুও। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই ফের কাঁথিতে অশান্তি।
