চঞ্চল প্রধান, হলদিয়া: আত্মগোপন না করে আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা আবু তাহের। শনিবার দুপুরে হলদিয়া মহকুমা আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করেন। যদিও আত্মগোপন নয় আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আবু তাহের ছিলেন বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন। খুনের মামলায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাঁকে জড়ানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। সুবিচার পেতে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা রেখেছেন তাঁর পরিবারের লোকজন।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলাফল ছিল ২ মে। ৩ মে নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের চিল্লগ্রামে বিজেপি কর্মী দেবব্রত মাইতি হামলার শিকার হন। কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মে দেবব্রত মাইতির মৃত্যু হয়। ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে মৃত ব্যক্তির ভাইপো সুশান্ত মাইতি মামলা করে। সেই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল ওঠে স্থানীয় তৃণমূলের দিকে। ২০২১ সালের ৩০ আগস্ট কলকাতা হাই কোর্ট এই মামলায় সিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ কয়েকমাস ধরে সিবিআই আধিকারিকরা তদন্ত চালায় চিল্লগ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায়। ধৃত ব্যক্তিদের দফায় দফায় জেরা করা হয়। ২০ জনের নাম উঠে আসে তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিটে। দুদফায় প্রিলিমিনারি চার্জশিটে প্রথমে ৩ জন এবং পরে ১১ জনের নাম উঠে আসে। পরবর্তীকালে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে ৬ জনের নাম যোগ হয়। তাতেই রয়েছে আবু তাহেরের নাম। তার বিরুদ্ধে ও ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (খুনের)ধারা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সিবিআই জেরাতে না গিয়ে ২০২২ সালে তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।
[আরও পড়ুন: হকার উচ্ছেদ ঘিরে রণক্ষেত্র হাওড়া স্টেশন, লাঠিচার্জ আরপিএফের]
জামিনের আবেদন করেন। সেখানে জামিনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশ সন্তোষজনক না হওয়ার ফলে সুপ্রিম কোর্টে জামিনের আবেদন করেন এই তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। ৪ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতে ২ সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয়। সেই মতো হলদিয়া মহকুমা আদালতে শনিবার তিনি আত্মসমর্পণ করেছেন। এ বিষয়ে আত্মসমর্পণকারীর ছেলে শেখ ওয়াসিম আহমেদ জানিয়েছেন, “২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় বাবার নাম পরিকল্পিতভাবে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বিচারব্যবস্থার উপর আমাদের আস্থা, ভরসা সবটাই রয়েছে। সুবিচার পাব। সত্যের জয় হবেই।”
আসামির আইনজীবী মনসুর আলম জানিয়েছেন, “আমার মক্কেল আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই ছিলেন। কখনও আত্মগোপন করেননি। তবে এই মামলার গুরুত্বের সঙ্গে আমার মক্কেলের সম্পর্ক বিচার করে দ্রুত জামিনের জন্য শুনানির বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট বিবেচনা করতে বলেছেন। বিচার প্রক্রিয়া উপর আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে মান্যতা দিতেই এদিন নিম্ন আদালতে তিনি হাজিরা দিয়েছেন।” মামলায় ধৃত ১৭ জন আগেই জামিন পেয়েছেন। তাদের মধ্যে নন্দীগ্রামের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শেখ সুফিয়ান, তার জামাই শেখ হাবিবুল, শেখ শাহাউদ্দিন, শেখ বাইতুল রয়েছেন। সিবিআইয়েক চোখে ফেরার ছিলেন ৩ জন। ফেরার থাকা শেখ আবু তাহের আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। এখনও ফেরার শেখ খুশনবী এবং শেখ আমানুল্লাহ। ১৯ সেপ্টেম্বর ফের অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশন জজের এজলাসে হাজিরা দেবেন তাহের।
