shono
Advertisement
Howrah

দৈনিক প্রায় লাখ টাকার তোলাবাজি! নাগালে পেয়েই তৃণমূল নেতাকে 'ডিম থেরাপি', জুটল গণধোলাই

হাওড়া স্টেশন চত্বরে যে শৌচাগার রয়েছে, সেখান থেকেও তোলার টাকা নিতে অরবিন্দ দাস ছাড়েননি বলে অভিযোগ।
Published By: Kousik SinhaPosted: 05:37 PM Jun 30, 2026Updated: 07:25 PM Jun 30, 2026

হাওড়া স্টেশন চত্বরে থাকা হকার ও ব্যবসায়ীদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা তোলাবাজি করার অভিযোগে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির হাওড়া জেলা সদর সভাপতি অরবিন্দ দাস ওরফে টাবলুকে দু’দিন আগে জলপাইগুড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছিল হাওড়া সিটি পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর এই তৃণমূল নেতাকে পুলিশ ৫দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয়। তদন্ত চলাকালীন আজ, মঙ্গলবার ধৃত অরবিন্দ দাসকে হাওড়া স্টেশন চত্বরে থাকা তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে এসে তল্লাশি চালায় পুলিশ। সেই তল্লাশি শেষে এদিন যখন ওই তৃণমূল নেতাকে পুলিশ তাঁর অফিস থেকে বার করে গাড়িতে তুলছিল তখনই অফিসের বাইরে ভিড় করে থাকা উত্তেজিত জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়ে। এমনকী পুলিশের হাত থেকে অরবিন্দ দাসকে রীতিমতো ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে মারধরও করা হয়। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় হাওড়া স্টেশন চত্বরে। কোনওরকমে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে গাড়িতে তোলে। এর পর এই ঘটনায় উত্তেজিত জনতার মধ্যে থেকে কয়েকজনকে আটকও করে পুলিশ। গোলাবাড়ি থানায় নিয়ে গিয়ে বিকেল পর্যন্ত তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়।

Advertisement

জানা গিয়েছে, প্রতিদিন হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকার তোলাবাজি করত এই আইএনটিটিইউসির সভাপতি। এই টাকা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও পৌঁছাত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, বর্তমানে বিধানসভায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই অরবিন্দ দাস ওরফে টাবলু। শুধু ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নয়, উত্তর হাওড়ায় তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক গৌতম চৌধুরির ঘনিষ্ঠ অরবিন্দ। শনিবার জলপাইগুড়ি থেকে ধরার পর টাবলুকে রবিবার সকালে হাওড়ায় নিয়ে এসে হাওড়া আদালতে তোলা হয়। আদালত তাঁকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকেই আইএনটিটিইউসির এই নেতা পলাতক ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যবসায়ীদের তরফে আইএনটিটিইউসির জেলা সদর সভাপতির বিরুদ্ধে থানায় ১৫টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। হাওড়া স্টেশন চত্বরে এই অরবিন্দ দাসের নেতৃত্বেই চলত তোলাবাজি। হাওড়া স্টেশন চত্বরে হকারদের প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ ডালা থেকে হুমকি দিয়ে তোলার টাকা আদায় করতো অরবিন্দ ও তার দলবল। হাওড়া স্টেশন চত্বরে বেআইনি হকার বসানোর পিছনেও হাত ছিল টাবলুর। শুধু হকার ও ব্যবসায়ীদের থেকে তোলার টাকা নেওয়া নয়, কলকাতা বাসস্ট্যান্ড, হাওড়া বাসস্ট্যান্ডের বাস মালিকদের থেকেও তোলাবাজি করে হুমকি দিয়ে এই তৃণমূল নেতা টাকা তুলত বলে অভিযোগ। এমনকী হাওড়া স্টেশন চত্বরে যে শৌচাগার রয়েছে, সেখান থেকেও তোলার টাকা নিতে অরবিন্দ দাস ছাড়েননি বলে অভিযোগ। এছাড়া হাওড়া স্টেশন চত্বরে জুয়া, সাট্টা, চোলাই মদের বেআইনি রমরমা কারবার গড়ে উঠেছিল। আর এই বেআইনি কারবারের পিছনে হাত ছিল টাবলুর! এই অবস্থায় টাবলুকে হাতের নাগালে পেয়েই ক্ষোভ উগরে পড়ে। পুলিশের হাত থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করে স্থানীয় মানুষজন। জানা গিয়েছে, প্রতিদিন হাওড়া স্টেশন চত্বর থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকার তোলাবাজি করত এই আইএনটিটিইউসির সভাপতি। এই টাকা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও পৌঁছাত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে পুলিশ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement