বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের প্রাসঙ্গিক ময়নার বিজেপি নেতা বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়া খুনের ঘটনা। সদ্য বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া চন্দন মণ্ডলকে নোটিস দিল এনআইএ। আর তার ফলে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চাপানউতোর। নোটিস দিয়ে আদতে তৃণমূল নেতাকে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেই দাবি শাসক শিবিরের।
জানা গিয়েছে, নোটিস দিয়ে কলকাতার এনআইএ দপ্তরে চন্দন মণ্ডলকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। নোটিস হাতে পেয়ে ক্ষুব্ধ চন্দনবাবু। তাঁর দাবি, "বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়ার মৃত্যুর সময় আমি বিজেপিতে ছিলাম। সদ্যই কলকাতার তৃণমূল ভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শাসক শিবিরে যোগ দিয়েছি। দল পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এনআইএ নোটিস পাঠানো হয়েছে।" যদিও তার বিরোধিতা করেছে গেরুয়া শিবির। ময়নার বিজেপি বিধায়ক বলেন, "এনআইএ কাকে কী নোটিস পাঠাবে সে তদন্তকারীদের বিষয়। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। তাই কেন আমরা উত্তর দেব?" সবমিলিয়ে এনআইএ নোটিস নিয়ে ময়নায় রাজনৈতিক উত্তাপ যে ক্রমশ বাড়ছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালের পয়লা মে ময়নার বাকচার ঘোড়ামহলের বিজেপি বুথ সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়াকে অপহরণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ময়না থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তৃণমূলের ৩৪ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার নেয় এনআইএ। তবে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে নানা টালবাহানার অভিযোগ ওঠে। নিহতের বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়েও গড়িমসি হয় বলেই অভিযোগ। যদিও বেশ কয়েকদিন পর এনআইএ পুরোদমে তদন্ত শুরু করে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া নেতাকে নোটিস পাঠিয়েছে এনআইএ। তা নিয়ে ভোটের মুখে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।
