গ্রেপ্তারির আশঙ্কাই সত্যি হল। বাংলা থেকে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না। পুরীর হোটেল থেকে পাকড়াও বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। রাজ্য পুলিশের এসটিএফ তাঁকে পাকড়াও করেছে বলে প্রাথমিক খবর। পড়শি রাজ্যের পুরীতে একটি হোটেলে গা ঢাকা দিয়ে তিনি ছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে হানা দেন তদন্তকারীরা। আজ, বুধবার পুরীর হোটেল লিলি থেকে তাঁকে ধরা হয়েছে।
ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর সমাজমাধ্যমে তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তাঁকে কার্যত হুমকি দিতে দেখা যায়। সেই ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “১৫ বছর ধরে অনেক সংযম দেখিয়েছিলাম। শান্তিতে রেখেছিলাম। কিন্তু আর তা হবে না।” বিজেপিকে প্রকাশ্যে হুমকি দিতেও শোনা গিয়েছে তাঁকে। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই দিলীপের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের হয়। যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।
দিলীপ মণ্ডলের পৈলানের বাড়িতে গিয়েছিল পুলিশ ও ব়্যাফ। বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি অভিযান চালায়। বাড়িতে ঢুকে তৃণমূল বিধায়কের বিলাসবহুল জীবনযাপন দেখে তাজ্জব পুলিশ কর্মীরা। ওই বাড়িতে রয়েছে চিড়িয়াখানা, একাধিক দামী গাড়ি, সুইমিং পুল, দোলনা-সহ কাঠের আসবাবপত্র।
এরপর গত ১৪ মে, সকালে দিলীপ মণ্ডলের পৈলানের বাড়িতে যায় পুলিশ ও ব়্যাফ। বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি অভিযান চালায়। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িতে ঢুকে তৃণমূল বিধায়কের বিলাসবহুল জীবনযাপন দেখে তাজ্জব পুলিশ কর্মীরা। ওই বাড়িতে রয়েছে চিড়িয়াখানা, একাধিক দামী গাড়ি, সুইমিং পুল, দোলনা-সহ কাঠের আসবাবপত্র। এছাড়াও বাড়িতে একটি গুহাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই তল্লাশি অভিযানের পর থেকেই বেপাত্তা বিধায়ক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ইতিমধ্যে গত ১৭ মে, রবিবার রাজ্য পুলিশের টাস্ক ফোর্স এবং ডায়মন্ড হারবারের জেলা পুলিশের আধিকারিকরা বিধায়কপুত্র অর্ঘ্য মণ্ডলের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালান। অর্ঘ্য-সহ পাঁচজনকে বকখালি, ফ্রেজারগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। তাঁদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে এলাকায় অযথা অশান্তি পাকানোর অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে রক্ষাকবচের আর্জিতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল বিধায়ক।
বিভিন্ন জায়গায় তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। রাজ্য পুলিশের এসটিএফও তাঁকে খুঁজছিল। এরই মধ্যে জানা যায়, রক্ষাকবচের আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। সেই মামলা গ্রহণ করেছিল হাই কোর্ট। কিন্তু তিনি এইসময় আত্মগোপন করেছিলেন। পরে জানা গিয়েছিল বাংলা ছেড়েই পালিয়েছেন এই তৃণমূল বিধায়ক। শেষপর্যন্ত তিনি গ্রেপ্তার হলেন।
