ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের স্বাস্থ্যশিবির 'সেবাশ্রয়ে' বেনিয়মের ভূরি ভূরি অভিযোগ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও এক মর্মান্তিক কাণ্ড। অভিযোগ, 'সেবাশ্রয়'-এ পরামর্শে চিকিৎসায় পরেই একরত্তি মেয়ের হাত কেটে বাদ দিতে হয়েছে। বুধবার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার।
এইমসে চিকিৎসা চালুর রাখার জন্য অর্থ সাহায্য করার পরিবর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে ওই শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানা এলাকার বাসিন্দা কৃতী মান্নার পরিবারের অভিযোগ, জন্ম থেকেই রক্তনালির বিরল-জটিল রোগে আক্রান্ত শিশুকন্যা। জন্মের পর থেকেই তার চিকিৎসা শুরু হয়। কলকাতার একাধিক হাসপাতালে তার চিকিৎসা হয়। চিকিৎসার জন্য তাকে ভেলোরও নিয়ে যাওয়া হয়েছিস। ২০২৪ সালে মার্চ মাস থেকে দিল্লির এইমস হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু হয়। তবে বিরল কঠিন রোগের সঙ্গে লড়াই করার অন্যতম অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল অর্থ। তাই শিশু চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার আশায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হন ওই পরিবার। এইমসে চিকিৎসা চালুর রাখার জন্য অর্থ সাহায্য করার পরিবর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে সেবাশ্রয় ক্যাম্পে ওই শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
অভিযোগ, দিনের পর দিন ওই শিশুর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি দেখে দিল্লি-ব্যাঙ্গালুরুতে নিয়ে ছোটে পরিবার। সেখানেই শিশুটিকে প্রাণে বাঁচাতে ডান হাত কাঁধ থেকে বাদ দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা।
পরিবারের অভিযোগ, এরপরই শুরু হয় হেনস্থা। ডা. শান্তনু সেন ও অয়ন ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, সেখান থেকেও মিলেছে দুর্ব্যবহার। পরবর্তীতে পানাকুয়া সেবাশ্রয় ক্যাম্পে অভিষেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরিবার ফের অর্থ সাহায্যের জন্য আবেদন করেন। তাতে কান না দিয়ে শিশুকে রেফার করা হয় আরজিকর হাসপাতালে। অভিযোগ, দিনের পর দিন ওই শিশুর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি দেখে দিল্লি-ব্যাঙ্গালুরুতে নিয়ে ছোটে পরিবার। সেখানেই শিশুটিকে প্রাণে বাঁচাতে ডান হাত কাঁধ থেকে বাদ দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা।
পরিবারের আরও অভিযোগ, অনুমতি না নিয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর লোকসভা এলাকার যাবতীয় কর্মসূচি দিয়ে প্রকাশ করা 'নীরব বিপ্লব' নামে একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের জন্য ওই শিশুর ছবি ব্যবহারও করেন।
পরিবারের অভিযোগ, সাংসদের উপরে আস্থা রাখাই কাল হল। বহুবার আর্থিক সহায়তার আবেদন করা হলেও তাতে সাড়া দেওয়া তো দূরস্থ। উলটে শিশুটির হাত বাদ দিতে হল। পরিবারের আরও অভিযোগ, অনুমতি না নিয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর লোকসভা এলাকার যাবতীয় কর্মসূচি দিয়ে প্রকাশ করা 'নীরব বিপ্লব' নামে একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের জন্য ওই শিশুর ছবি ব্যবহারও করেন।
অনুমতি ছাড়াই অভিষেকের পত্রিকায় শিশুর ছবি দিয়ে বিজ্ঞাপন।
গোটা ঘটনার তদন্তের দাবি তুলে এবার পুলিশের দ্বারস্থ পরিবার। অভিষেক সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দায়ের এফআইআর। দিন কয়েক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার বাসিন্দা মালতী বিশ্বাস অভিযোগ ঘিরে নড়েচড়ে বসে রাজ্যের স্বাস্থ্যদপ্তর। সেবাশ্রয়ের ভুল চিকিৎসায় পা বাদ যাওয়ার অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর করেছিল পরিবার। ওই পরিবারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ফোনে যোগাযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রীও। এবার 'সেবাশ্রয়ে'র আরও এক মর্মান্তিক পরিণতি সামনে এল।
