নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত বারাসতের দুই নার্স কোমায়!দু'জনেরই গ্লাসগো কোমা স্কেলের চোখ খোলা, মৌখিক প্রতিক্রিয়া ও মোটর রেসপন্স এই তিনটি সূচক ৫-এর নিচে রয়েছে। সিস্টার নার্সের অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক! পুণে এনআইভি থেকেও তাঁর রিপোর্টে নিপা পজেটিভ এসেছে বলেই জানা গিয়েছে। ব্রাদার নার্সের রিপোর্টও পজেটিভ আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত দু'জনের কনট্রাক্ট ট্রেসিং করে প্রায় ৬৫ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সকলকে আইসলেশনে থাকার নির্দেশ হয়েছে।
আক্রান্ত দু'জনেই বারাসতের হৃদয়পুরে মেস ভাড়া করে থাকেন। ব্রাদার নার্সের সঙ্গে দু'জন ও সিস্টার নার্সের সঙ্গে থাকেন একজন। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, দু'জনেই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই অবস্থাতেই দু'জনে বেশ কিছুদিন ডিউটি করেছিলেন। এই তিনজন-সহ সিস্টার নার্সকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে আসা চালক সহ যারা ছিল, যাঁরা চিকিৎসা করেছে, তাঁদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি গুসকরায় নার্সিংয়ের একটি পরীক্ষায় বসেছিলেন পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা সিস্টার নার্স। নিউটাউনে টিসিএসের সেন্টারে একটি পরীক্ষায় বসেছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা ব্রাদার নার্স। কনট্রাক্ট ট্রেসিংয়ে আসা এই সকলকে আইসলেশনে থাকার নির্দেশ হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৫জনের নমুনা কল্যাণী এইমসে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
নিপায় আক্রান্ত যশোর রোডের বারাসত রথতলা সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মঙ্গলবার রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক দফায় দফায় বৈঠক করেছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সমুদ্র সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, "আক্রান্ত দুজনের কনট্রাক্ট ট্রেসিং করা হচ্ছে। সংখ্যাটা বাড়তে পারে। স্বাস্থ্য কর্মীদের সতর্ক করে বলা আছে, একিউট এনসেফ্যালাইটিস সিনড্রোমে আক্রান্ত পেলে বা সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোমে কেউ আক্রান্ত হলে কনট্রাক্ট ইতিহাস জানতে হবে। একইসঙ্গে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিধি মেনে সকল চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীকে ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে।"
প্রসঙ্গত, নিপায় আক্রান্ত দু'জন স্বাস্থ্যকর্মী চাকরি করতেন যশোর রোডের বারাসত রথতলা সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালে। কয়েক দিন আগে আক্রান্ত সিস্টার নার্স বাড়িতে গিয়েছিলেন। গত ৩১ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। কাটোয়া হাসপতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়। দুই দিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে আইসিসিইউতে দু'দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁকে বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্স করে কর্মস্থল বারাসতের ওই বেসরকারি হাসপতালে নিয়ে আসা হয়। পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা অপর ব্রাদার নার্সও একই জায়গায় ভর্তি আছেন। দুই স্বাস্থ্যকর্মীকেই ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিৎসা চলছে।
