ওড়িশায় ছেলে ধরা সন্দেহে নয়াগ্রাম ব্লকে কর্মরত দুই মাইক্রো অবজার্ভারকে মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঝাড়গ্রাম জেলায়। জখম দু’জনকে ওই রাজ্যেরই জলেশ্বরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের তরফে ইতিমধ্যে ওড়িশার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের উদ্যোগে আক্রান্ত দুজনকে ঝাড়গ্রামে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কেন এই ঘটনা তা জানতে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত দুজনের নাম কৌশিক হাঁসদা ও সমীক হাজরা। সমীক হাজরা পূর্ব বর্ধমানের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে কর্মরত এবং নয়াগ্রামে মাইক্রো অবজার্ভারের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর সঙ্গেই ছিলেন কৌশিকও। বুধবার ব্যক্তিগত কারণে ওড়িশার বালাসোর জেলার রাজনগর এলাকায় গিয়েছিলেন কৌশিক এবং সমীক। সেখানকার কিছু বাসিন্দা তাঁদের ছেলেধরা সন্দেহে ঘিরে ধরে মারধর করে বলে অভিযোগ। এমনকী বিকেল পর্যন্ত তাঁদের স্থানীয় মানুষজন আটকে রাখেন বলেও অভিযোগ। ঘটনায় কৌশিক হাঁসদা গুরুতর জখম হন। তিনি বাঁকুড়ার রানীবাঁধ এলাকার বাসিন্দা।
ঝাড়গ্রামের জেলা শাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর জানান, ওড়িশা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং প্রশাসনের তরফে সবরকম সহায়তা করা হচ্ছে। নয়াগ্ৰামের বিডিও শান্তনু সরকারও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্প্রতি ঝাড়গ্রামে বাড়িতে কড়া নাড়ার গুজবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। দহৎমূল গ্রামে আটজনকে সন্দেহে ধরে পুলিশের জেরার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই গুজব পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ গ্রামে গ্রামে সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করলেও তার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। দুই মাইক্রো অবজার্ভারকে হুমকি দেওয়ার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল।
