shono
Advertisement

Breaking News

‘অস্ত্র ছাড়াই দুষ্কৃতীকে ধরতে পাঠানো হয়’, ভিলেজ পুলিশ খুনে বিস্ফোরক মৃতের পরিবার

বাড়ি ফিরে আসার পরেও জরুরি তলবে অভিযানে পাঠানো হয় ভিলেজ পুলিশ বিশ্বজিৎ মাইতিকে। The post ‘অস্ত্র ছাড়াই দুষ্কৃতীকে ধরতে পাঠানো হয়’, ভিলেজ পুলিশ খুনে বিস্ফোরক মৃতের পরিবার appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 12:16 PM Nov 03, 2019Updated: 03:25 PM Nov 03, 2019

নবেন্দু ঘোষ, বসিরহাট: শুক্রবার সন্ধেয় শেষবার বাড়ি ফিরেছিলেন। খেতে দেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছিলেন মা। আচমকাই বেজে ওঠে সন্দেশখালি থানার ভিলেজ পুলিশ বিশ্বজিৎ মাইতির ফোন। জরুরি তলব করা হয় তাঁকে। দায়িত্ব এড়াতে পারেননি সৎ যুবক বিশ্বজিৎ। তাই তো মায়ের রাঁধা খাবার না খেয়ে এক দৌড়ে থানায় যান। সেই শেষ। আর সশরীরে বাড়ি ফেরা হল না বিশ্বজিতের। সন্দেশখালিতে দুষ্কৃতীদের গুলিতে মারা যান বিশ্বজিৎ। তাঁর মৃত্যু মানতে পারছেন না পরিজনেরা। পুলিশি উদাসীনতাতেই এমন ঘটনা ঘটল বলেই অভিযোগ তাঁদের। অভিযুক্তদের ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিজনেরা।

Advertisement

শুক্রবার সন্ধেয় চারটি বাইকে চড়ে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী ফুল্লরা শ্মশানঘাটে উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন বিশ্বজিৎ মাইতি। বছর আঠাশের এই ভিলেজ পুলিশের বাইকে চড়েই ঘটনাস্থলে যাচ্ছিলেন সন্দেশখালি থানার সেকেন্ড অফিসার অরিন্দম হালদার। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর আগে ওই পুলিশকর্মীদের দিকে ধেয়ে আসতে থাকে গুলি। তাতেই জখম হন সেকেন্ড অফিসার অরিন্দম হালদার, ভিলেজ পুলিশ বিশ্বজিৎ মাইতি-সহ মোট তিনজন। তাঁদের কলকাতার নার্সিংহোমে ভরতি করা হয়। বাকি দু’জন এখনও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তবে শুক্রবার সন্ধেয় জীবনযুদ্ধে হার মানেন বিশ্বজিৎ। ছেলের মৃত্যুর মতো কঠিন বাস্তবকে মেনে নিতে পারছেন না তাঁর মা। কথায় কথায় জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি।

ভ্যানচালক বাবার সন্তান বিশ্বজিৎ। তাঁর মাটির বাড়িতে মা, বাবা ছাড়াও ছিল ভাই। তিনি ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করেন। বর্তমানে কেরলে রয়েছেন বিশ্বজিতের ভাই। ২০১২ সালে ভিলেজ পুলিশের কাজে যোগ দেন বিশ্বজিৎ। ছোট থেকে তাঁর স্বপ্ন ছিল মনের মতো করে বাড়ি বানাবেন। সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল পাড়ার মিশুকে, শান্ত ছেলের। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের মা। তাঁর অভিযোগ, কেদার, বিধান, লাল্টুর উৎপাতে এলাকার কেউই নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন না। রাতের অন্ধকারে মেয়েদের বাড়ি থেকে বেরনোয় প্রায় দায় হয়ে গিয়েছে। তবে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয় না বলেও অভিযোগ নিহতেক মায়ের। বিশ্বজিতের পিসির গলাতেও বারবার পুলিশের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ প্রকট হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, একজন ভিলেজ পুলিশের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকে না। শত্রুদের দমন করার কৌশলের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয় না। তা সত্ত্বেও এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতীদের ঠেকাতে কেন সামনে এগিয়ে দেওয়া হল একজন ভিলেজ পুলিশকে? এই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

[আরও পড়ুন: প্রতিবেশীর স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার জেরেই খুন কড়েয়ার ‘কোটিপতি’ অটোচালক]

আত্মীয়-প্রতিবেশীরা শনিবার রাত থেকে বিশ্বজিতের বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন। যন্ত্রণার কাঁটা গলায় বিঁধলেও ঘরের ছেলেকে শেষ বার দেখার প্রতীক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। সূত্রের খবর, বিশ্বজিতের দেহ কলকাতা থেকে সন্দেশখালির পড়ুয়াপাড়ার বাড়িতে পৌঁছতে প্রায় সন্ধে হয়ে যাবে।

দেখুন ভিডিও:

The post ‘অস্ত্র ছাড়াই দুষ্কৃতীকে ধরতে পাঠানো হয়’, ভিলেজ পুলিশ খুনে বিস্ফোরক মৃতের পরিবার appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement