তৃণমূল জমানায় কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি। প্রায় ১০ কোটি টাকা তছরূপের অভিযোগে গ্রেপ্তার কালচিনি ব্লকের মাঝের ডাবরি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল নেতা মানস রায়। তাঁর স্ত্রী ওই পঞ্চায়েতেই ৫ বছর প্রধানেনর দায়িত্ব সামলেছন। সরকার বদলাতেই দুর্নীতির ঘুঘুর বাসা ভাঙতে শুরু করায় পুলিশকে বাহবা গ্রামবাসীদের। ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান তাঁরা।
কালচিনি ব্লকের মাঝের ডাবরি গ্রামপঞ্চায়েতের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ১০ কোটি টাকা তছরূপের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল নেতা মানস রায়কে। ২০১৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মানস রায়ের স্ত্রী বুবুন রায় প্রধান থাকাকালীন বিভিন্ন প্রকল্প থেকে এই টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রীকে প্রধানের পদে বসিয়ে বকলমে মানুস রায়ই প্রধানের কাজ সামলেছেন। বিভিন্ন প্রকল্পে বহু বিল বানিয়ে কাজ না করে প্রায় ১০ কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ১০০ দিনের কাজ, মুরগির পোল্ট্রি ফার্মে শেড নির্মাণ, বাগান তৈরি, টিউবওয়েল বসানো সহ বিভিন্ন প্রকল্প থেকে তিনি কোটি কোটি তুলে নিয়েছেন বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে, এমনটাই অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মীদের সহযোগিতায় এই দুর্নীতিগুলো হয়েছে গত পাঁচ বছর ধরে। মানস রায় তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির যুব সহ সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন সেসময়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে দিনের পর দিন দুর্নীতি চালিয়ে গিয়েছেন, এমনটাই বলছেন এলাকার বাসিন্দারা।
অন্যদিকে আলিপুরদুয়ার ১ ব্লকের বিবেকানন্দ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২/১৩১ নম্বর বুথের তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য বিক্রম বর্মনকে গ্রেপ্তার করে আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ। এই পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে মোবাইল কোম্পানি থেকে টাওয়ার বসানোর জন্য ঘুষ বা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠতেই বুধবার রাতে উত্তরজিতপুর এলাকায় তাঁর বাড়ি থেকে এই পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
নতুন সরকারের আমলে পরপর তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান শুরু হতেই উচ্ছ্বসিত গ্রামবাসীরা। মানস রায়কে গ্রেপ্তারের পর মাঝের ডাবরি এলাকার বাসিন্দারা শামুকতলা থানায় গিয়ে পুলিশ আধিকারিককে সংবর্ধনা দেন। এলাকার 'ত্রাস' মানস রায় গ্রেপ্তার হওয়ায় খুশি বলে জানান তাঁরা।
