বাবুল হক, মালদহ: ফের ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। এই ঘটনার জেরে দিনভর উত্তপ্ত রইল মালদহ। শ্রমিক মৃত্যুর খবর আসতেই ক্ষোভে ফুটছিলেন গ্রামবাসী। বুধবার শ্রমিকের দেহ গ্রামে ফিরতেই ক্ষোভ বিদ্রোহের চেহারা নেয়। রাজ্য সড়ক আটকে চলে বিক্ষোভ অবরোধ। রাস্তাতেই বসে পড়েন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে পৌঁছেও অবরোধ মুক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালে ব়্যাফ ও ইংরেজবাজার থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বুঝিয়ে সুঝিয়ে অবরোধকারীদের হটানো হয়। তারপর রাজ্য সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এদিন ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের কোতোয়ালি-রতুয়া রাজ্য সড়কে।
[সোনারপুরে ভুয়ো চিকিৎসকের হদিশ, প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ খেয়ে গুরুতর অসুস্থ তরুণী]
জানা গিয়েছে, মৃত দুই শ্রমিকের নাম তোফাজুল শেখ (২৪) ও এক্রামুল শেখ (৩০)। এঁরা দু’জনেই মালদহের ইংরেজবাজার থানা এলাকার নরহাট্টা গ্রাম পঞ্চায়েতের বুধিয়া গ্রামের বাসিন্দা। গতমাসে গ্রামের আরও কয়েকজন যুবকের সঙ্গে দু’জনেই অন্ধ্রপ্রদেশে কাজ করতে গিয়েছিলেন। কয়েকদিন আগেই তাঁদের মৃত্যুর খবর আসে। এদিন দুই শ্রমিকের দেহ ফিরতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা গ্রাম। ঠিকাদারের বাড়িতেই চলে হামলা। বলাবাহুল্য ওই ঠিকাদারের তত্ত্বাবধানেই তাঁরা ভিনরাজ্যে কাজে গিয়েছিলেন। এদিকে গোটা গ্রাম হামলা করতে আসছে খবর পেয়ে আগেই বাড়ি ছেড়েছেন ঠিকাদার ও তাঁর পরিজনেরা। তবে তখনও জ্বলছে ক্ষোভের আগুন। তাই গ্রাম লাগোয়া রাজ্য সড়কে অবরোধ শুরু করে ক্ষুব্ধ জনতা। পরে পুলিশ ও ব়্যাফ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
[বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার গৃহবধূর কম্বলচাপা মৃতদেহ, চাঞ্চল্য সোনারপুরে]
উল্লেখ্য, ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। গত বছর মালদহের আফরাজুল হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্কের শেষ ছিল না। রাজস্থানে রাজসামান্দ জেলায় খুন হন আফরাজুল। তাঁকে গাঁইতি দিয়ে লাগাতার কুপিয়ে মারা হয়। তারপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে পেট্রল ঢেলে জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি ভুলতে পারেননি মালদহবাসী। ফের ভিনরাজ্যে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটতেই উত্তাল গোটা এলাকা। এদিকে দিন কয়েক আগে ভিনরাজ্যে শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর। মৃত স্বর্ণ শিল্পীর দেহ গ্রামে পৌঁছাতেই পুলিশকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে ইট পাথর। ভয়ে পিছু হটে পুলিশ। এরপর জনতার রোষ আছড়ে পড়ে পুলিশের গাড়িতেই। কার্যত পুলিশের চোখের সামনেই চুরমার হয় গাড়ি।
ছবি :হরেন চৌধুরি
