সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর: ভোটের ডঙ্কা বাজলেও রাস্তা ও দমকল পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে পাণ্ডবেশ্বর। হাতে গোনা কয়েকটি গ্রাম ছাড়া শুধুই বিঘার পর বিঘা খনি এলাকা৷ খনি অঞ্চল হওয়ায় বেশ কিছু স্থায়ী সমস্যার মধ্যে রয়ে গিয়েছে পাণ্ডবেশ্বর ব্লক৷ ভোট আসে ভোট যায়৷ কিন্তু সমস্যা সমস্যাতেই থেকে যায়৷ পাণ্ডবেশ্বরের রেলগেট অন্যতম অস্বস্তির কেন্দ্রবিন্দু৷ কলেজ, রেলষ্টেশন বা থানায় যেতে হলে এই গেট পার করেই যেতে হয়৷ ব্লকের একমাত্র রেলগেট আজ মানুষের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ অন্ডাল থেকে বীরভূমের সাঁইথিয়া– এই রেল লাইন দিনের অধিকাংশ সময়ই বন্ধ থাকে৷ একবার ফটকের ফাঁসে আটকে গেলে নূন্যতম আধঘণ্টার আগে রেহাই নেই৷ বহুবার এই অংশে রেলকে ওভারব্রিজের দাবি জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি৷ আবার ডিভিসি মোড় থেকে কেন্দ্রা বা খোট্টাডিহি যাওয়ার রাস্তাটাই প্রায় গায়েব হয়ে গেছে বহুদিন হল৷
[প্রচার সেরে বাড়ি ফেরার পথে বামেদের মিছিলে হামলা, উত্তপ্ত কুমারগঞ্জ]
পরিত্যক্ত রানওয়ের উপরেই রয়েছে রাস্তা৷ আদতে নাকি রানওয়েতে কোনও রাস্তাই নেই৷ কিন্তু তাই ব্যবহার করতে বাধ্য হন এলাকার বাসিন্দারা৷ এই নিয়ে বহুবার প্রশাসনের দারস্থ হয়েও কোন সুরাহা হয়নি বলেই অভিযোগ স্থানীয়দের। যেহেতু ব্লকের বৃহদাংশ জুড়েই খনি তাই ধুলোয় মিশছে কয়লার গুঁড়ো। এ যেন বাসিন্দাদের নিত্যদিনের সঙ্গী৷ চারিদিকে খোলা মুখ খনি বা সাধারণ খনি হওয়ায় দিন রাত বাতাসে মিশছে কয়লার গুঁড়ো৷ আবার সেই কয়লা পরিবহণের জন্যে যখন বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তখনই বাতাসে কয়লার সঙ্গে মিশছে ধুলো৷ ইসিএলের ভারী ভারী ডাম্পার রাস্তা দিয়ে ধুলো উড়িয়ে আসা যাওয়া করছে। পাণ্ডবেশ্বরের গাইঘাটা থেকে শীতলপুর হয়ে শঙ্করপুর পর্যন্ত এলাকায় দিনের আলো ঢেকে যায় ধুলো ও কয়লার গুঁড়োতে৷ এর জেরে নানারকম রোগের কবলে পড়ছেন বাসিন্দারা।
এদিকে খনি অঞ্চল হলেও পাণ্ডবেশ্বর ব্লকে কোনও দমকল কেন্দ্র নেই৷ নিকটবর্তী দমকল কেন্দ্র দুর্গাপুরের সঙ্গে এই এলাকার দূরত্ব প্রায় সাতাশ কিলোমিটার৷ আবার রানিগঞ্জের দুরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার৷ হঠাৎ অগ্নিকাণ্ড ঘটলে ক্ষয়ক্ষতি সীমা ছাড়াবে। এর আগেও সংশ্লিষ্ট ব্লকে বেশ কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রানিগঞ্জ বা দুর্গাপুর থেকে দমকল পৌঁছানোর আগে সবই ভষ্মীভূত হয়েছে।পাণ্ডবেশ্বর বাজার এলাকায় পার্কিং সমস্যা নিয়েও জেরবার স্থানীয়রা৷ ফুলবাগান মোড় থেকে থানা রোড পর্যন্ত বাজার রাস্তার উপরই যত্রতত্র পার্কিং চলছে। এনিয়েও দৈনিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয় এলাকাবাসীকে৷ পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতি এই সমস্যা সমাধানে কোনওসময়ই সচেষ্ট হয়নি বলে অভিযোগ ব্লকের বাসিন্দাদের৷ এই সদাব্যস্ত রাস্তার উপরই পোষ্ট অফিস, গার্লস স্কুল, ব্যাংক, সিনেমাহল ও বৈদন্যনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়৷ এত সুযোগ সুবিধা পেয়েও শুধু গাড়ির সমুদ্রে নাভিশ্বাস ওঠে বাসিন্দাদের। এই প্রসঙ্গে সিপিএমের পশ্চিম বর্ধমান জেলা কমিটির সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় জানান, “ স্থানীয় সমস্যা ছাড়াও শাসকদল এই ব্লকে নিজেদের অধিকার নিয়েই কোন্দলে ব্যস্ত৷ দখলদারির রাজনীতির জন্যে প্রায়শই লড়াই চলে নিজেদের মধ্যে। তাই উন্নয়নে নজর নেই তাদের৷” যদিও সিপিএমের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল৷ বাম আমলে বেআইনি কয়লার কারবারের জন্যে এই পাণ্ডবেশ্বর ব্লক কুখ্যাত হয়ে উঠেছিল। এমনটাই অভিযোগ। এলাকার বিধায়ক জিতেন্দ্র তেওয়ারি জানান, “ ক্ষমতালোভী বামেদের ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর উন্নয়ন নজরে পড়বে না৷ তাদের আমলে পাণ্ডবেশ্বর নরকের সমান ছিল৷ স্থানীয় মানুষরাই এই অভিযোগ করছে৷ এখন আমূল পরিবর্তন হয়েছে৷ এটাই উন্নয়নের জয়৷”
ছবি: উদয়ন গুহরায়
[জোট-ঘোঁট আর কোর্ট ছাড়া বিরোধীদের কিছু ছিল না, পঞ্চায়েত রায়ে কটাক্ষ পার্থর]
The post নেই রাস্তা, ভোটের আগে তৃণমূল-সিপিএম চাপানউতোর তুঙ্গে পাণ্ডবেশ্বরে appeared first on Sangbad Pratidin.
