পলাশের হাতে ধামসা। আর শিমুলের হাতে মাদল। যমজ ভাই তারা। ধামসা মাদলের ছন্দে মঙ্গলবার থেকে পুরুলিয়ার পথে নেমে জঙ্গলমহলের এই জেলার ভোটারদের নির্ভয়ে বুথমুখী করতে প্রচার করবে। তাদের স্লোগান, 'ধামসা মাদলের ছন্দে, ভোট দিন আনন্দে।' সোমবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স হলে পলাশ-শিমুল যমজ ভাইয়ের এই আহবানেই এবার বাংলার বিধানসভা ভোটের পুরুলিয়ার ম্যাসকট। এদিন সন্ধ্যায় যার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম।
তিনি বলেন, "পলাশ ফুল পুরুলিয়ার সংস্কৃতিতে মিশে গিয়েছে। জঙ্গলমহলের এই জেলার পর্যটনকে তুলে ধরে পলাশ। বসন্তে পলাশ আর শিমুল পুরুলিয়ার সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দেয়। আর যেহেতু এই সময়ই ভোট। তাই আমরা পলাশ-শিমুলকে সামনে রেখে সেই সঙ্গে পুরুলিয়ার ঐতিহ্য পরম্পরা মেশানো বাদ্যযন্ত্র ধামসা ও মাদলকে নিয়ে এই ম্যাসকট বানিয়েছি। পলাশ আর শিমূল একেবারে পথে নেমে ভোটদানের জন্য প্রচার চালাবে। যাতে জেলার ভোটাররা নির্ভয়ে বুথমুখী হতে পারেন।" এবারই প্রথম ইভিএম-এ ভোটপ্রার্থীদের রঙিন ছবি থাকছে। আগে ভোটযন্ত্রে প্রার্থীদের সাদা-কালো ছবি থাকত। ভোটাররা যাতে প্রার্থীদেরকে সহজে চিনতে পারেন, তাই এই ব্যবস্থা কমিশনের।
এবারই প্রথম ইভিএম-এ ভোটপ্রার্থীদের রঙিন ছবি থাকছে। আগে ভোটযন্ত্রে প্রার্থীদের সাদা-কালো ছবি থাকত। ভোটাররা যাতে প্রার্থীদেরকে সহজে চিনতে পারেন, তাই এই ব্যবস্থা কমিশনের।
ফি বছর পুরুলিয়ার ম্যাসকট রাজ্যে আলাদাভাবে নজর কাড়ে। যেমনভাবে 'ভোটেশ্বর' বিগত দিনের নির্বাচনের আবহে সাড়া ফেলেছিল বাংলায়। তেমনই অতীতে পুরুলিয়ার ম্যাসকট 'পলাশমণি' পুরস্কার পেয়েছিল। এসআইআরের কারণে এবার পুরুলিয়ার নির্বাচন দপ্তরের ম্যাসকট প্রকাশ হতে দেরি হলেও তার কথা, কায়দা ও ভোটারদের কাছে আহ্বান বনমহলের মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পলাশ-শিমূল এই দুই যমজ ভাই কখনও টোটোতে, কখনও ট্যাবলোতে আবার কখনও কাটআউটের মাধ্যমে ভোটারদের অবাধে ভোটদানে প্রচার চালিয়ে যাবে। পলাশ-শিমুল যমজ দুই ভাইয়ের পোশাকে পুরুলিয়ার সংস্কৃতি ফুটে উঠেছে। উপজাতি মানুষজনের কায়দায় ওই দুই ভাই সবুজ, নীল কালো স্ট্রাইপের ধুতি। সঙ্গে দু'ভাইয়ের মাথায় দুটি হলুদ গামছা বাঁধা। এই হলুদ গামছার মধ্যে দিয়েও পুরুলিয়ার জনজাতিকে তুলে ধরেছে নির্বাচন কমিশন। যেহেতু জঙ্গলমহলের এই জেলায় কুড়মি জনজাতির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
উপজাতি মানুষজনের কায়দায় ওই দুই ভাই সবুজ, নীল কালো স্ট্রাইপের ধুতি। সঙ্গে দু'ভাইয়ের মাথায় দুটি হলুদ গামছা বাঁধা। এই হলুদ গামছার মধ্যে দিয়েও পুরুলিয়ার জনজাতিকে তুলে ধরেছে নির্বাচন কমিশন। যেহেতু জঙ্গলমহলের এই জেলায় কুড়মি জনজাতির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
তাই তাদের জীবনের সঙ্গে জুড়ে থাকা প্রতীক হলুদকে ওই গামছার রঙে জুড়ে দিয়ে জনজাতির সংস্কৃতিকেও তুলে ধরেছে কমিশন। এই জেলায় মোট ভোট কর্মীর সংখ্যা ১২৬৪৫। বুথের সংখ্যা ২৫২৯ হলেও অক্সিলিয়ারি বুথ রয়েছে। তার সংখ্যা ২৭৯। ক্রিটিক্যাল ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা ভালনারাবেল বুথের সংখ্যা ১১২০। তবে ভোটের আগে এই সংখ্যার পরিবর্তন হবে। এই জেলা ভোটের দিন কত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী পাচ্ছে তার উপর নির্ভর করে ওই বুথ গঠন হবে। এদিন ম্যাসকট উদ্বোধনের আগে ওই কনফারেন্স হলেই সর্বদলীয় বৈঠক হয়। ওই সর্বদলীয় বৈঠকে জেলা প্রশাসনের তরফে এমসিসি, মনোনয়ন, ভোটের প্রচারকাজ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়।
