ভোটের (West Bengal Assembly Election) জোর প্রচার চলছে বাংলাজুড়ে। সেই আবহে এবার বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে ধরা পড়লেন দুই বিজেপি নেতা! নাকাচেকিং-এর সময় পুলিশ ওই টাকা উদ্ধার করেছে। আটক হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের উস্তি থানা এলাকায়। ধৃত দুই বিজেপি নেতার নাম অরুনাভ মজুমদার ও অক্ষয় চক্রবর্তী। কী কারণে ওই বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে দু'জনে যাচ্ছিলেন? সেই কথা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। ঘটনা জানাজানি হতে এলাকার রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ তুলছে, বিজেপি রাজ্যে টাকা ঢুকিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ করছেন, বিজেপি টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে।
ভোটের (West Bengal Assembly Election) কারণে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন জায়গায় নাকাচেকিং চলছে। বেআইনি অস্ত্র, টাকা যাতে রাজ্যে না ঢোকে সেদিকে নজরদারি চলছে। আজ, সোমবার সকালে উস্তি থানার হটুগঞ্জ মোড়ে নাকাচেকিং চলছিল। সেসময় একটি চারচাকা গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়িতে থাকা ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে পড়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা! গাড়িতে দুই ব্যক্তি ছিলেন। তাঁদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু বিপুল পরিমাণ টাকার কোনও সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপরই টাকা, গাড়ি-সহ ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। জানা যায়, মোট ৯ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে।
তাঁদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু বিপুল পরিমাণ টাকার কোনও সঠিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপরই টাকা, গাড়ি-সহ ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। জানা যায়, মোট ৯ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে।
পরে জানা যায়, আটক হওয়া ওই দুই ব্যক্তি বিজেপির নেতা। অরুনাভ মজুমদার কলকাতার আরকে পাল লেনের বাসিন্দা। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য এবং ১৪২ মগরাহাট (পশ্চিম) বিধানসভা কেন্দ্রের ইনচার্জ। শ্রীচন্দার তপনার বাসিন্দা অক্ষয় চক্রবর্তী মগরাহাট (পশ্চিম) বিধানসভার বিজেপির কনভেনার। দু'জনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কী কারণে এত পরিমাণ নগদ টাকা নিয়ে কোথায় তাঁরা যাচ্ছিলেন? সেই তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
গাড়ির চালককেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গাড়িটি কুলপির দিক থেকে আসছিল। ধরা পড়া দুই বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, মগরাহাট (পশ্চিম) বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচনের কাজে লাগানোর জন্য এই টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই টাকা পার্টি ফান্ডের। ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে বিজেপি-তৃণমূল তরজা।
মথুরাপুর লোকসভার তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার বলেন, "ইউপি, গুজরাট সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী বিজেপি টাকা দিয়ে মানুষের ভোট কেনে। এবারও সেই চেষ্টাই করছিল। ধরা পড়ে গিয়েছে। তৃণমূল আগেও এই অভিযোগ করেছে। নগদ প্রায়১০ লক্ষ টাকা সহ বিজেপির দুই নেতা ধরা পড়ায় তৃণমূলের অভিযোগ এবার সত্যি বলে প্রমাণ হল।" বিজেপি নেতা সুফল ঘাঁটু বলেন, "যে নগদ টাকা-সহ দুই বিজেপি নেতাকে ধরা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, তা আদৌ ওই দুই বিজেপি নেতার কাছ থেকে পাওয়া গিয়েছে কিনা সে ব্যাপারে দল নিশ্চিত নয়। ভোটের আগে বিজেপির বিরুদ্ধে এই ঘটনা পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক এবং চক্রান্ত কিনা সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বিজেপি।"
