মহাত্মা গান্ধীকে দেশদ্রোহী বলে কটাক্ষ করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন ধূপগুড়ির বিজেপি প্রার্থী। তৃণমূলের তরফে এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা। এক্স হ্যান্ডেলে এবিষয়ে ফুঁসে উঠেছে তৃণমূল। লেখা হয়েছে, 'বাংলা এই নির্লজ্জ অপমান সহ্য করবে না'।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার রাতে। ওইদিন জলপাইগুড়ির বারোগরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে কটাক্ষ করেন বিজেপির ধূপগুড়ি বিধানসভা আসনের প্রার্থী নরেশ রায়। এখানেই থামেননি তিনি। ক্ষুদিরাম বসু ১৭ বছরে আত্ম বলিদান দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু দেশ সম্পর্কে কিছুই জানতেন না বলেও মন্তব্য করেন বিজেপি প্রার্থী। তাঁর এই মন্তব্য সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
প্রতিবাদে সরব হল তৃণমূল। এদিন এক্স হ্যান্ডেলে দলের তরফে লেখা হয়, 'বিজেপির বিষাক্ত মতাদর্শ অবশেষে প্রকাশ্যে এসেছে। ধূপগুড়ি থেকে তাদের প্রার্থী নরেশ চন্দ্র রায়, মহাত্মা গান্ধীকে “দেশদ্রোহী” বলার দুঃসাহস দেখিয়েছেন। মহাত্মা গান্ধী, জাতির জনক, যিনি খালি হাতে ও অহিংসার দ্বারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত্তি কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন, যিনি আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, সেই নেতাকেই এক বিজেপি নেতা দেশদ্রোহী বলে আখ্যা দিয়েছেন। যে দল কেবল ঘৃণা আর বিভাজনের উপর টিকে থাকে, তারা যখন আমাদের স্বাধীনতার জনককেই অপমান করতে শুরু করে, তখন তাদের সমস্ত আদর্শই উন্মোচিত হয়ে যায়। ইতিহাসের প্রতি অবজ্ঞা, ত্যাগের প্রতি অবজ্ঞা, এবং স্বয়ং ভারতের প্রতি অবজ্ঞা।' সেখানেই লেখা হয়েছে, 'বাংলা এই নির্লজ্জ অপমান সহ্য করবে না। জাতির আত্মাকে রক্ষা করতে, ঐক্য, স্বাধীনতা ও মর্যাদার সেই মূল্যবোধকে রক্ষা করতে বাংলা এক হয়ে জেগে উঠবে।' এদিন প্রতিবাদ হিসেবে দলীয় কার্যালয়ে মহাত্মা গান্ধীর ছবিতে মাল্যদান করেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা।
