সুমিত বিশ্বাস: পেশায় ঠিকাদার। কিন্তু তার রকমভেদ একাধিক। আর সেই রকমভেদের গেরোতেই আটকে পঞ্চায়েত ভোটে লড়াইয়ের ইচ্ছে! পূর্ত দপ্তর বা রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়তে পারলেও, যাঁরা ত্রি-স্তর পঞ্চায়েতের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার তাঁদের কিন্তু ইচ্ছে থাকলেও বিধি বাম। অথচ যাঁরা এই ত্রি-স্তর অর্থাৎ জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতে কাজ করলেও তালিকাভুক্ত নন, তাঁরা কিন্তু দিব্যি মনোনয়ন পেশ করতে পারবেন এই ভোটে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এমন নির্দেশিকায় প্রার্থী খুঁজতে এখন কালঘাম ছুটছে বিরোধী শিবির থেকে শাসকদলেরও।
[ চার চাকায় নিষেধাজ্ঞা, পঞ্চায়েতের প্রচারে ভরসা অটো-টোটো-রিকশা ]
একইভাবে এম.আর ডিলার থেকে হোমগার্ড, পঞ্চায়েত কর সংগ্রাহক থেকে জব ওয়ার্কারসরাও পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়তে পারবেন না। তবে রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা আবার এই ভোটে লড়তে পারবেন। ভোটে লড়ার ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই ট্যাক্স ডিফলটার বা করখেলাপির। কিংবা স্বর্ণ গ্রাম স্বরোজগার যোজনার অধীনে কাজ করা গ্রাম পঞ্চায়েত রিসোর্স পার্সেন (জি আর পি) বা ডিস্ট্রিক্ট রিসোর্স পার্সেন(ডি আর পি)-র। জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিক অরণ্য বন্দ্যেপাধ্যায় বলেন, “ঠিকাদারদের পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে একাধিক বিধি রয়েছে। ঠিকাদার হলেই যে লড়তে পারবেন তা নয়। বেশ কিছু রকমভেদ আছে।”
[ পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়নে গোলমাল ঠেকাতে বাঁশঝাড়েও সিসিটিভি ]
আর এই নানান রকমভেদের জালে পড়ে প্রার্থী খুঁজে মনোনয়ন কেন্দ্রে নিয়ে যেতে কম হিমশিম খেতে হচ্ছে নানা রাজনৈতিক দলগুলিকে। কোথাও সরাসরি সরকারি কর্মী হয়েও পঞ্চায়েতে লড়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই। আবার সরকারের কাজে স্থায়ীভাবে যুক্ত না থাকলেও নানান নিয়মে বহু পেশার ব্যক্তিরা আটকে যাচ্ছে পঞ্চায়েতে প্রার্থী পদ। তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক নবেন্দু মাহালি বলেন, “ঠিকাদারদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু রকমভেদ আছে। কমিশনের সমস্ত বিধি মেনেই আমাদের ত্রি-স্তর পঞ্চায়েতে প্রার্থী বাছতে হচ্ছে। আর এই কাজে খানিকটা বেগ পেতে তো হচ্ছেই।” যেমন হোম গার্ড সরকারি কর্মী হওয়ায় পঞ্চায়েত ভোটে লড়তে পারছেন না তেমনই বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী রাজ্য সরকারের আওতায় চাকরি করলেও তিনি আসলে রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন কোম্পানি লিমিটেডের কর্মী। একইভাবে এম আর ডিলাররা সরকারি কর্মী না হলেও তারা সরকারের গণবন্টন বিভাগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকায় তারা এই ভোটে প্রার্থী হতে পারবেন না।
[ প্রার্থী দেওয়া না গেলে ভোট বয়কটের পথে কংগ্রেস, ইঙ্গিত অধীরের ]
প্রার্থী হতে পারবেন শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের নির্দেশক, কমিউনিটি হেলথ গাইড, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকা, শিশু শ্রমিক স্কুলের নির্দেশক, প্রাথমিক-হাই স্কুলের শিক্ষক, সরকার পোষিত কলেজের অধ্যাপক, পূর্ত দপ্তরের ঠিকাদার, ত্রি-স্তর পঞ্চায়েত ঠিকাদার(তালিকাভুক্ত নন), বিদ্যুৎ পর্ষদের কর্মী, ট্যাক্স ডিফল্টার, জেলা সাক্ষরতা প্রসার সমিতির প্রেরক-প্রবর্তক, শিশু শিক্ষা কেন্দ্র ও মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের সহায়ক, জিআরপি-ডিআরপি, পিআরই চুক্তিভিত্তিক কর্মী, সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার্স ও পদত্যাগ করা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান। প্রার্থী হতে পারবেন না পঞ্চায়েত কর সংগ্রাহক, তালিকাভুক্ত ত্রি-স্তর পঞ্চায়েতের ঠিকাদার, জব ওয়ার্কার, এম আর ডিলার, হোমগার্ড।
The post পেশার রকমফেরে প্রার্থী হতে বাধা ঠিকাদারদের, সমস্যায় রাজনৈতিক দলগুলি appeared first on Sangbad Pratidin.
