shono
Advertisement

দক্ষিণবঙ্গে শীতের নয়া ইনিংস, রাত পোহালেই কমবে তাপমাত্রা

শীত পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। The post দক্ষিণবঙ্গে শীতের নয়া ইনিংস, রাত পোহালেই কমবে তাপমাত্রা appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 09:18 AM Nov 20, 2017Updated: 02:25 PM Sep 23, 2019

রিংকি দাস ভট্টাচার্য: নিম্নচাপের প্রভাব কাটতেই নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছে দক্ষিণবঙ্গের শীত। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, মেঘমুক্ত হতে শুরু করেছে দক্ষিণবঙ্গের আকাশ। আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধীরে ধীরে নামতে শুরু করবে তাপমাত্রা। তবে রাতের তাপমাত্রা কমলেও দিনের তাপমাত্রা পুরোপুরি নামতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement

[বৃষ্টিতে ক্ষতি, শীতের সবজির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা]

রবিবার আকাশ পরিষ্কার হলেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের তিন ডিগ্রি বেশি। সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও এদিন ঘোরাফেরা করেছে স্বাভাবিকের এক ডিগ্রি উপরে। এরই জেরে দিনভর গরম মালুম হয়েছে। যদিও গত কয়েকদিন বৃষ্টির জেরে ছবিটা অন্যরকম ছিল। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের পাঁচ-ছয় ডিগ্রি নিচে থাকায় ঠান্ডা-ঠান্ডা ভাব অনুভূত হয়েছে। রাতেও গায়ে উঠেছে হালকা চাদর। কিন্তু এদিন সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন–দুই তাপমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে শহরবাসী। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি বিলীন হয়ে গেলেও তার প্রভাবে ওড়িশা ও লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উপরে একটি দুর্বল ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। যার ফলে জোলো হাওয়া ঢুকে দিন ও রাতের তাপমাত্রাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব সোমবার বিকেলের পর থেকেই কমতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। “সোমবার থেকেই রাতের তাপমাত্রা নামবে। তবে এক ধাক্কায় নয়। সপ্তাহের মাঝামাঝি তাপমাত্রা ১৮-১৯ ডিগ্রিতে নামতে পারে।” মত হাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ এইচ আর বিশ্বাসের। তিনি বলেন, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুকনো-ঠান্ডা হাওয়া দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করতে শুরু করবে সোমবার থেকেই।

[থানার সামনে মাইক বাজিয়ে উদ্দাম নাচ পুলিশকর্মীদের, দেখুন ভিডিও]

এ বছর অক্টোবর শেষ হতেই হেমন্তের আভাস মিলেছিল। পাঁচ বছরের রেকর্ড ভেঙে ৩১ অক্টোবর আলিপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ২০ ডিগ্রিতে। নভেম্বর শুরুতে রাতে পারদ নামার সঙ্গে সঙ্গে হিমেল ভাবও মালুম হচ্ছিল। কিন্তু নিম্নচাপের জেরে সেই পরিস্থিতি তালগোল পাকিয়ে গিয়েছে। আসলে শীত নির্ভর করে উত্তুরে হাওয়ার উপর। উত্তুরে হাওয়ার গতি যত বাড়বে রাজ্যে শীতের দাপটও তত বাড়বে৷ তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় নিম্নচাপ বা ঘূর্ণাবর্তের জন্য বিপরীত বায়ুপ্রবাহের জেরে বন্ধ হয় উত্তুরে হাওয়ার পথ। সমুদ্র থেকে গরম হাওয়া ঢুকে পড়ে স্থলভাগে। ফলে উত্তাপ বাড়তে থাকে৷ গত কয়েকদিনে দক্ষিণবঙ্গের শীতের ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, অক্টোবর-নভেম্বর মাস বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের মরশুম। এই সময় সেখানে নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলেই রাজ্যে ঢুকতে শুরু করে গরম জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস। তিন বছর আগে হুদহুদ, নিলোফার-এর হানায় থমকে গিয়েছিল শীতের আমেজ। বছর দু’য়েক আগে ঠান্ডার রথে রাশ টেনেছিল অক্টোবর-নভেম্বর মাসে আন্দামান সাগরে তৈরি দু’টি ঘূর্ণিঝড় ‘হেলেন’ এবং ‘লহর’।

আবহাওয়াবিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা, বর্ষা বিদায় নিতেই আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। তার জেরে রাতে ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক বেশি তাপ বিকিরিত হতে পারে৷ সেই বেশি তাপ বিকিরণের ফলেই রাতের তাপমাত্রা দ্রুত হারে কমতে থাকে। শীত পড়ার জন্য এই তাপ বিকিরণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নিম্নচাপের জেরে সেই প্রক্রিয়াতে বাধা পড়ছে৷ সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে উপরে উঠে গিয়েছে। তাঁদের কথায়, আকাশে মেঘ থাকলে দিনের তাপমাত্রা বাড়বে না। ফলে দিন-রাতের তাপমাত্রার ফারাক সেভাবে হবে না। শীত পড়ার ক্ষেত্রে দিন ও রাতের তাপমাত্রার ফারাকটা বেশি হওয়া প্রয়োজন।তবে পটভূমি প্রস্তুত। শীত পড়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

[‘লাভ জেহাদ’, হিন্দুত্ববাদ সম্পর্কে জানতে পড়ুয়াদের মেলায় যাওয়ার নির্দেশ!]

The post দক্ষিণবঙ্গে শীতের নয়া ইনিংস, রাত পোহালেই কমবে তাপমাত্রা appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার