অভিষেক চৌধুরী,কালনা: প্রেমের সম্পর্ক মানতে পারেনি দুই পরিবার। তাই পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন দুজনে। তবে সংসার তেমন সুখের ছিল না। প্রায় সবসময়ই গঞ্জনা শুনতে হত তাঁকে। নির্যাতনেরও শিকার হতে হয়েছিল বাইশ বছরের ওই তরুণীকে। কোলের কন্যাসন্তানকে নিয়ে বাধ্য হয়ে বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন। রবিবার সকালে বাপের বাড়ি থেকেই উদ্ধার হল বধূর ঝুলন্ত দেহ। মানসিক অবসাদে আত্মহত্যা বলেই অনুমান পুলিশের।
মন্তেশ্বরের জামনা পঞ্চায়েতের কানপুর গ্রামের বাসিন্দা বৈশাখী প্রামাণিক। বছর চারেক আগে মন্তেশ্বরের বুধপুরের বাসিন্দা সুখেন্দু রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। বৈশাখীর বাপের বাড়ির লোকজনের দাবি, জাতপাত নিয়ে সবসময় খোঁটা শুনতে হত তরুণীকে। শুধু তাই নয়, শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও তাঁর স্বামী প্রায় নিয়মিত অত্যাচার করত বলেও অভিযোগ। দুবছর আগে কন্যাসন্তানের মা হন বৈশাখী। তবে তা সত্ত্বেও পরিস্থিতি বদলায়নি। তরুণী এর আগেও আত্মহত্যার চেষ্টাও করেন। তা বিফলে যায়। শেষমেশ বাপের বাড়ি ফিরে যান বৈশাখী। এর পর রবিবার সকালে ঘরে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
[আরও পড়ুন: জুটি বাঁধছেন কৌশিক-রূপা! কোন পরিচালকের ফ্রেমে ‘দুই গঙ্গোপাধ্যায়’?]
বধূর বাবা সুবীর প্রামাণিক ও মা শুক্লা প্রামাণিক জানান, “মেয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। জামাই তেমন কিছু করে না। দফায় দফায় মেয়েকে অত্যাচার করত। গঞ্জনা শুনতে হত। বাড়ি থেকে মেয়েকে একবার বেরও করে দেয়। মেয়ে দেড় বছর আগে আমাদের বাড়িতে চলে আসে। জামাই মাঝেমধ্যেই আসত। সমস্যার সমাধানের জন্য বললেও তা হয়নি। ছেলের পরিবার শ্বশুরবাড়িতে যেতে দিত না। সে কারণে মানসিক অবসাদে ভুগত। তাই মেয়ে আত্মহত্যা করে।" শনিবার রাতে ফোনে স্বামীর সঙ্গে বচসাও হয় তরুণী। তাঁর চরম সিদ্ধান্তে হতাশ পরিবারের লোকজন। কান্না বাঁধ মানছে না সদ্য সন্তানহারা বাবা-মায়ের।
