সুমন করাতি, হুগলি: পোষ্য তিন হাঁসের অস্বাভাবিক মৃত্যু। বিষ খাইয়ে তাদের খুন করা হয়েছে বলেই অভিযোগ। পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও বিশেষ লাভ হয়নি। অবশেষে হুগলি জেলা পরিষদের প্রাণীসম্পদ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষের হস্তক্ষেপে হল ময়নাতদন্তের বন্দোবস্ত। হাঁসগুলির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চুঁচুড়া থেকে কলকাতায় পৌঁছল দেহ।
চুঁচুড়ার সিংহীবাগানের বাসিন্দা ইতি বিশ্বাস। স্বামী হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন। একমাত্র ছেলের ব্লাড ক্যানসার। সবমিলিয়ে কঠিন লড়াই। অনটনের সংসার চলে ঝালমুড়ি বিক্রির টাকায়। ১০টি হাঁস তাঁর পোষ্য। সেগুলিই তাঁর সংসারের সুস্থ সদস্য। সরল চোখ আর ভরাট গড়নের সেই হাঁসগুলি যেমন প্রিয় তেমনই আয়ের উৎসও বটে। হঠাৎই শনিবার গৃহবধূ দেখেন, তিনটি হাঁস কাতরাচ্ছে। দেখেন একটি মুড়ির ঠোঙা পড়ে আছে হাঁসের ঘরের সামনে। সন্দেহ হওয়ায় শুঁকে দেখেন ইতিদেবী। বিষজাতীয় কিছু মেশানো হয়েছে বলেই ধরে নেন।
[আরও পড়ুন: অবসর ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ‘প্রত্যাবর্তন’, কী বলছেন মেরি কম?]
রবিবার সকালে দেখতে পান, তিনটি হাঁস মরে গিয়েছে। ‘হাঁসের হোমিসাইড’-এর দাবি নিয়ে সটান পৌঁছে যান থানায়। থানা থেকে জানানো হয়, আগে ময়নাতদন্ত করিয়ে আনুন। কোনওকালে এমন কথা শোনেননি ইতিদেবী। সোমবার চুঁচুড়ার পশু হাসপাতালে চলে যান তিনি। সেখানেও সহজ হয়নি লড়াই। কিন্তু ছাড়বেন কেন সিংহীবাগানের ‘সিংহী’? বহুবার আর্জির পর ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশের আবেদন-সহ বুধবার ফের হাঁসগুলি নিয়ে আসার কথা জানানো হয়।
কিন্তু তাঁকে এটাও জানানো হয়, জেলা প্রশাসনের কাছে এই ময়নাতদন্ত করার ব্যবস্থা নেই। এর পর এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন হুগলি জেলা পরিষদের প্রাণীসম্পদ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ নির্মাল্য চক্রবর্তী। নির্মাল্য চক্রবর্তী জানান, ওই মহিলার পরিবার যাতে স্বনির্ভর হতে পারে তাই হাঁসগুলি দেওয়া হয়েছিল। ওই মহিলার আর্জি মেনে পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে মৃত হাঁসগুলিকে কলকাতা ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টে পাঠানো হয়েছে। নির্মাল্যবাবু আরও বলেন, “মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী কেউ যদি হাঁসগুলিকে বিষ খাইয়ে মেরে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
