নয়ের দশকের শুরু থেকে ২০০০ সাল, শাহরুখের লিপে সঙ্গীতশিল্পী অভিজিৎ ভট্টাচার্যের গান হিন্দি ছবির দর্শকের মনোরঞ্জনের বাড়তি আকর্ষণ তা বললে অত্যুক্তি হয় না।। কিন্তু, ২০০৪ সালে শাহরুখ-সুস্মিতা সেন অভিনীত 'ম্যায় হু না' ছবির একটি গানকে ঘিরে দুই শিল্পীর সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও নয়ের দশকের সেই ফেমাস জুটির যুগলবন্দি আর কখনও দেখা যায়নি। 'বড়ি মুশকিল হ্যায়', 'তওবা, তুমহারে ইয়ে ইশারে', 'ওহ, লড়কি সবসে অলগ হ্যায়', 'বাদশাহ ও বাদশাহ'-এর মতো একাধিক হিট গানে গায়ক-নায়ক জুটির ম্যাজিক আজও ভোলেনি দর্শক।
তাঁর কণ্ঠস্বর শাহরুখের অন স্ক্রিন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকার বিষয়ে গর্বিত ছিলেন। কিন্তু, আজ কিং খানের দম্ভ আর অভিজিতের আত্মসম্মানের মাশুল গুনছেন হাজার হাজার ভক্ত! বহু বছর পর শাহরুখ খানের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে মুখ খুললেন অভিজিৎ ভট্টাচার্য। শাহরুখের থেকে একটিবার 'সরি' শুনতে চেয়েছিলেন অভিজিৎ। একটা ছোট্ট 'সরি'তেই সম্পর্কের বরফ গলে জল হয়ে যেত বলে দাবি গায়কের। বাদশার ব্যবহারে তিনি আঘাত পেয়েছেন তা বলতে দ্বিধাবোধ করেননি।
অভিজিতের দাবি, শাহরুখ যদি একবার তাঁকে আলিঙ্গন করতেন তাহলেই সব ক্ষোভ এক নিমেষে মন থেকে মুছে যেত। অভিমানী অভিজিতের বিশ্বাস, একদিন শাহরুখও ঠিক এই আচরণটাই ফেরত পাবেন। হয়তো তাঁর নিজের প্রযোজনা সংস্থার থেকেই!
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে উপস্থিত হয়ে মান-অভিমানের কথা বলতে গিয়ে অভিজিৎ বলেন, "শাহরুখ খানের অহংকার আর আমার আত্মসম্মান এই দুটোই আমাদের দূরত্বের কারণ। শাহরুখ আমার থেকে অনেকটাই ছোট। যখন ফারাহ খানের স্বামী ওকে অপমান করলেন তখনও শাহরুখ জড়িয়ে ধরেছিল। আমির খান তো ওঁর নামে পোষ্যের নাম রেখেছিল জেনেও ওঁদের বন্ধুত্ব অটুট। অথচ আমাকে একবারও ‘সরি’ বলতে পারল না! যত বড় অভিনেতাই হোক না কেন, আমি ওকে ক্ষমা করিনি।"
কেন অভিমানী অভিজিৎ?
এই ঘটনাটা তাঁর মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছিল বলেও জানান অভিজিৎ ভট্টাচার্য। অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলেন,"একটা সময় ভেবেছিলাম শাহরুখ ছাড়া আর কারও জন্য গান গাইব না। কিন্তু, পরে সিদ্ধান্ত নিলাম আর কোনওদিন ওঁর জন্য কণ্ঠ দেব না। শাহরুখের জন্য গান গাওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত অহংকার থেকে নয় বরং ব্যক্তিগত হতাশা থেকেই নিয়েছিলাম। আমি খুব উপেক্ষিত বোধ করেছিলাম। খুব অবহেলিত মনে হত নিজেকে। শাহরুখের আশেপাশেই থাকতাম, ওঁর ছোট্ট একটা পদক্ষেপ হয়তো এই দূরত্ব ঘুচিয়ে পুরনো ছন্দে সম্পর্ককে ফেরাতে পারত।"
শাহরুখকে নিয়ে কী স্বীকারোক্তি অভিজিতের?
অভিজিতের সঙ্গে শাহরুখের মনোমালিন্যের সূত্রপাতটা ঠিক কোথায়? সাম্প্রতিক অতীতে একাধিক সাক্ষাৎকারে গায়ক জানিয়েছেন, শাহরুখ অভিনীত এবং প্রযোজিত ‘ম্যায় হুঁ না’ ছবিতে তাঁর গাওয়া গানের জন্য যথাযথ কৃতিত্ব তাঁকে দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় চরম অপমানিত বোধ করেছিলেন। আর সেখান থেকেই দুই শিল্পীর দ্বন্দ্ব শুরু। অভিজিতের দাবি, শাহরুখ যদি একবার তাঁকে আলিঙ্গন করতেন তাহলেই সব ক্ষোভত্র এক নিমেষে ভুলে যেতেন। অভিমানী অভিজিতের বিশ্বাস, একদিন শাহরুখও ঠিক এই আচরণটাই ফেরত পাবেন। হয়তো তাঁর নিজের প্রযোজনা সংস্থার থেকেই!
