শোকের আবহে অনীক দত্তর রহস্যমৃত্যু ঘিরে মাথাচাড়া দিয়েছে একাধিক প্রশ্ন! বুধবার দুপুরে আচমকাই শোনা যায়, বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন পরিচালক। এরপর সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। ইতিমধ্যেই তাঁর গড়িয়াহাটের হিন্দুস্তান পার্কের বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট। সেই প্রেক্ষিতেই এবার অনীকের রহস্যমৃত্যুতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করল গড়িয়াহাট থানার পুলিশ।
আবাসনের ছাদ থেকেই উদ্ধার হয় পরিচালকের লেখা সুইসাইড নোট। যেটা ‘কোরিওগ্রাফিক আর্ট ম্যাগাজিন ২০০৮’- নামে একটি বইয়ের মধ্যে খামে ভরা ছিল।
পুলিশি সূত্রে খবর, আবাসনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে দুপুর ১টা থেকে ১টা ১০ মিনিটের মধ্যে। এমনকী পরিচালক যে সময় বহুতল থেকে নিচে পড়েছিলেন সেটা এক পথচারী দেখতে পেয়ে তিনিই পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ২টো নাগাদ ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। তারপর ঢাকুরিয়ার এক বেসরকারি হাসপাতালে অনীক দত্তকে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। জানা গিয়েছে, আবাসনের ছাদ থেকেই উদ্ধার হয় পরিচালকের লেখা সুইসাইড নোট। যেটা ‘কোরিওগ্রাফিক আর্ট ম্যাগাজিন ২০০৮’- নামে একটি বইয়ের মধ্যে খামে ভরা ছিল। অনুমান করা হচ্ছে, সেটা অনীক নিজেই সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন। পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে, যে চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে সেটা মেয়ে ঐশী দত্তকে উদ্দেশ্য করে লিখে গিয়েছেন পরিচালক। যদিও সেখানে নিজের মৃত্যুর জন্য কাউকে দোষারোপ করেননি অনীক দত্ত। নোটে উল্লেখ, "এই ঘটনার জন্য কেউ দায়ী নয়।" তবে মেয়ে রাইয়ের উদ্দেশে তিনি কী লিখেছেন? সেই উত্তর অধরা।
প্রয়াত অনীক দত্ত
এদিকে গতবছরই পরিচালকের দাম্পত্য ভাঙার খবর প্রকাশ্যে আসে। শোনা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই নাকি স্ত্রী সন্ধি দত্তের সঙ্গে একছাদের তলায় থাকতেন না। কিন্তু বুধসকালে আচমকা সেখানেই কেন গেলেন? এমন প্রশ্নও উঠছে।
মেয়ে ঐশী থাকেন সুইডেনে। বছর দুয়েক আগে সাতপাকে বাঁধা পড়েছেন। খবর, বৃহস্পতিবার তিনি কলকাতায় এলেই পরিচালকের শেষকৃত্য করা হবে। তার প্রাক্কালে অনুরাগীদের জন্য নন্দনে রাখা হবে অনীকের মরদেহ। এরপর সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হবে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, অনীক দত্ত আত্মহত্যাই করেছেন। কিন্তু একজন স্বনামধন্য পরিচালক আচমকাই কেন আত্মঘাতী হলেন? এমন কৌতূহলও শুরু হয়েছে সিনেমহলে। কারণ মৃত্যুর দিন কয়েক আগে পর্যন্ত যাঁরা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁরা কেউই মানসিক অবসাদে ভোগার ইঙ্গিত কিংবা অনীকের কথায় কোনও অসঙ্গতি খুঁজে পাননি। এদিকে গতবছরই পরিচালকের দাম্পত্য ভাঙার খবর প্রকাশ্যে আসে। শোনা যায়, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই নাকি স্ত্রী সন্ধি দত্তের সঙ্গে একছাদের তলায় থাকতেন না। কিন্তু বুধসকালে আচমকা সেখানেই কেন গেলেন? এমন প্রশ্নও উঠছে। এদিকে পুলিশি সূত্রে খবর, এদিন ছাদে যাওয়ার আগে স্ত্রীর সঙ্গে দেখাও হয়নি পরিচালকের। বরং সিসিটিভি ফুটেজ বলছে, তিনি একাই ছাদে গিয়েছিলেন। অনীক দত্তের এহেন রহস্যমৃত্যুতে এবার গড়িয়াহাট থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করল।
