shono
Advertisement
Aparajita Adhya on Arup Biswas

অরূপ বিশ্বাসকে ভাইফোঁটা দেওয়ায় মারাত্মক ট্রোলড! বিতর্কের ঝড়ে কী জবাব অপরাজিতার?

নেটভুবনের আতশকাচে অরূপ আয়োজিত ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অভিনেত্রীরা। যার জেরে বর্তমানে অপরাজিতা আঢ্য, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত থেকে কৌশানি মুখোপাধ্যায়দের লাগাতার কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে। এপ্রসঙ্গে অপরাজিতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল সংবাদ প্রতিদিন-এর তরফে। কী বললেন অভিনেত্রী?
Published By: Sandipta BhanjaPosted: 06:33 PM Jun 06, 2026Updated: 09:00 PM Jun 06, 2026

গ্রেপ্তারির পর থেকেই টলিপাড়ার 'ত্রাস' স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ছাই চাপা আগুনের মতো বুজে থাকা সব ক্ষোভ লাভার মতো ফুঁড়ে বেরচ্ছে! সেলেব পাড়ার একাংশের অভিযোগ, টলিউডে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'। যার জেরে স্বরূপের পাশাপাশি অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও 'বিষোদগার' শুরু করেছেন একাংশ! এমন আবহে নেটভুবনের আতশকাচে অরূপ আয়োজিত ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া অভিনেত্রীরা। যার জেরে বর্তমানে অপরাজিতা আঢ্য, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত থেকে কৌশানি মুখোপাধ্যায়দের লাগাতার কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে। এপ্রসঙ্গে অপরাজিতার (Aparajita Adhya) সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল সংবাদ প্রতিদিন-এর তরফে। কী বললেন অভিনেত্রী?

Advertisement

"কোনও কালেই তৃণমূলের টিকিট নিইনি। এই অরূপদাই কিন্তু আমাকে ২০২১ সালে ফোন করে বলেছিলেন- 'দিদি কিন্তু চাইছে।' আবার এটাও সত্যি অরূপদাই প্রথম আমাকে বলেছিলেন যে- 'অপরাজিতা তুই সহজ-সরল মানুষ কোনওদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়াবি না।..." 

অপরাজিতার সাফ কথা, "আমি আর আমার দাদা যেমন এক মানুষ নই, তেমনই অরূপ বিশ্বাস এবং স্বরূপ বিশ্বাসও দু'জন আলাদা মানুষ। দু'জনের দর্শনও আলাদা। ২০০০ সালে প্রতিদিন-এর পুজো পরিক্রমাতে গিয়েই অরূপদার সঙ্গে আমার আলাপ। তখন তো অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas) কোনও মন্ত্রী ছিলেন না। তখন উনি 'সুরুচির অরূপদা' ছিলেন। আমরা প্রত্যেক বছর হইহই করে যেতাম, খুব মজা করতাম ওঁর পুজোয়। যে ছবিটা নিয়ে ট্রোল হচ্ছে, সেটা ২০১৩ সালের ছবি। যে বছর উনি ভাইফোঁটা চালু করলেন ২০১২ সালে, তারপর থেকে প্রত্যেক বছর আমার কাছে বহুবার ফোন আসে যে- 'অপা তুই কিন্তু আমার বোন, ফোঁটাটা দিয়ে যাস।' একজন মন্ত্রী মানুষ যদি আমাকে আমন্ত্রণ জানান, এবং আমার এতদিনের পরিচিত, আমার সময় থাকলে আমি তো নিশ্চয়ই যাব। আমি তখনও গিয়েছি, গতবছরও গিয়েছি। কারণ গতবছর আমি যখন পুজো পরিক্রমায় গেলাম, তখন উনি আমাকে বললেন- 'তুই অনেক বছর আসিস না, আমার কিন্তু খুব অভিমান হয়েছে, এবছর তুই কিন্তু আসবি।' তারপরেও উনি আমাকে দু-তিনবার ফোন করেছিলেন, ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য। তাই আমি গিয়েছি। এবং আজকে যদি ইন্ডাস্ট্রির কোনও সমস্যা থেকে থাকে, তাহলে সেটা স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে তো নয়।" এখানেই অবশ্য থামেননি তিনি।

২০১২ সালে অরূপ বিশ্বাসের আমন্ত্রণে ভাইফোঁটার অনুষ্ঠানে অপরাজিতা আঢ্য

অপরাজিতা মনে করিয়ে দিয়েছেন, "ইন্ডাস্ট্রির বহুলোক তো বলেছে যে, যাবতীয় সমস্যা নিয়ে আমরা অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গেই কথা বলেছি। তখন কিন্তু আরেকপক্ষ বলেছিল- স্বরূপ, দাদা অরূপের কথা শোনে না। এটা তো ইন্ডাস্ট্রিতে কথিত আছে যে, স্বরূপ যা বলেন, সেটা অরূপ খুব শোনেন। কারণ তিনি ভাইকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। কিন্তু দাদার কথা স্বরূপ শোনেন না।" যে ছবিটা নিয়ে এত ট্রোল-মিমের বন্দুকবাজি কিংবা আপনাকে 'তৃণমূল ঘনিষ্ঠ' বলে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে, সেপ্রসঙ্গে কী মত? অপরাজিতা আঢ্যর মন্তব্য, "আমি তো অরূপ বিশ্বাসকে ভাইফোঁটা দিয়েছি, কেউ ছবি দেখাতে পারবে যে আমি স্বরূপকে ফোঁটা দিয়েছি? বা তার সঙ্গে গল্প করছি বা কোনও রাজনৈতিক মঞ্চে বক্তৃতা দিচ্ছি?" অভিনেত্রীর সংযোজন, "২০১৬, ২০২১ সালে যেমন প্রস্তাব এসেছিল, তেমন ২০২৬ সালেও আমার কাছে প্রস্তাব আসে। ফোনটা এসেছিল আমার ম্যানেজারের কাছে। আমি নিইনি, কারণ আমি রাজনীতির মানুষ নই। রাজনীতি আমি পছন্দ করি না। আমি সেটা করব না বলেই এবছর, তার আগের বছর কিংবা তারও আগে কোনও কালেই তৃণমূলের টিকিট নিইনি। এই অরূপদাই কিন্তু আমাকে ২০২১ সালে ফোন করে বলেছিলেন- 'দিদি কিন্তু চাইছে।' আবার এটাও সত্যি অরূপদাই প্রথম আমাকে বলেছিলেন যে- 'অপরাজিতা তুই সহজ-সরল মানুষ কোনওদিন রাজনীতির সঙ্গে জড়াবি না। রাজনীতি তোর জন্য নয়।' তার মানে, ওঁকে অন্যধরনের মানুষ হিসেবেই ভাবব। তার মানে তো এই নয় যে, স্বরূপ বিশ্বাসকে আমি সমর্থন করি।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement