shono
Advertisement
Debleena Dutt

'অনেক মেয়েরাও কাস্টিং কাউচের সঙ্গে যুক্ত!' টলিপাড়ার অন্দরের কথা ফাঁস করলেন দেবলীনা দত্ত

আর কী বললেন দেবলীনা।
Published By: Akash MisraPosted: 07:05 PM Aug 28, 2024Updated: 07:05 PM Aug 28, 2024

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আর জি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে প্রথম থেকেই সরব টলিউড অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত। প্রতিবাদী মিছিলেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তবে আর জি কাণ্ডকে সঙ্গে নিয়েই এবার টলিপাড়া যৌন হেনস্তার বিরুদ্ধে সরব। কাস্টিং কাউচের প্রসঙ্গে ইতিমধ্য়েই শোরগোল টলিউডে। এই বিষয় নিয়েই প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে, সম্প্রতি অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত জানালেন, ''আমি তো চিরকালই সরব এই ব্য়াপারে। আমি তো যতবার এই বিষয় নিয়ে কথা বলেছি, ততবার বলেছি, আমাদের বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে হেনস্তার জায়গা রয়েছে। কাস্টিং কাউচ রয়েছে। আর আমি যদি কাস্টিং কাউচের কথা বলি, তাহলে ভাগাভাগির কথা বলব। দ্বিমতের কথা বলব। শুধু পুরুষরা নয়, বহু মহিলা আছে যাঁরা কাস্টিং কাউচের অংশ। এটা নিয়ে একটা বিতর্কের জায়গা তৈরি হতেই পারে। তবে হেনস্তার জায়গা তো রয়েইছে এখানে। যাঁরা ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন কাজ করতে এসেছে, তাঁদের মানসিক দিক থেকে নির্যাতন করা হয়। এমন একটা মানসিক চাপ, পরিবেশের সৃষ্টি করা হয় যে, সে বাধ্য হয় কাস্টিং কাউচের অংশ হতে। এটাও কিন্তু একরকমের নির্যাতন। তবে শুধুই আমাদের ইন্ডাস্ট্রি নয়। সব ইন্ডাস্ট্রিতেই এমন হয়। এমনকী, পরিবারের মধ্যেই এমন বিকৃত মানসিকতার লোক রয়েছে।''

Advertisement

হেমা কমিটির রিপোর্ট ঘিরে মালয়ালম চলচ্চিত্র জগতের উত্তাল পরিস্থিতি। এমন পরিস্থিতিই বাংলা ইন্ডাস্ট্রির যৌন হেনস্তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হন ঋতাভরী চক্রবর্তী। রূপাঞ্জনা মিত্র, অনীক দত্ত, পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়, সুজয় প্রসাদ চট্টোপাধ্যায়রাও তাঁকে সমর্থন করেন। এমন অবস্থায়, টলিউডে কাজের পরিবেশ ঠিক রাখা তথা টলিউডের অন্দরে ঘটে চলা নারী নিগ্রহের বিরুদ্ধে দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে উইমেনস’ ফোরাম ফর স্ক্রিন ওয়ার্কাস।

ইম্পা, আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন ও টেলি অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর সেখানে আর জি কর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির সিনেমা, সিরিয়াল ও ওয়েব প্ল্যাটফর্মে কাজ করা মহিলাদের যৌন হেনস্তার অভিযোগ কথা জানানো হয়েছে। চিঠিতে লেখা, “প্রত্যেকদিন আমাদের নানা ভাবে যৌন হেনস্তার শিকার হতে হয়। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে নারী, শিশু এবং প্রান্তিক পরিচয়ের মানুষদের নির্যাতনের কথাও শোনা যায়। তবুও, আমাদের কাছে এমন কোনও কার্যকরী সহায়তা ব্যবস্থা নেই যেখানে ভারতীয় আইন অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, নিষেধাজ্ঞা এবং প্রতিকারের দাবি জানাতে পারি।”

এই সমস্ত বিষয়ের প্রতিকারের দাবিই জানানো হয়েছে চিঠিতে। প্রশ্ন করা হয়েছে, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যৌন হেনস্তার অভিযোগ জানানোর জন্য কোনও প্রতিষ্ঠান কি রয়েছে? পকসো আইনের শর্তগুলো কি মেনে চলা হচ্ছে? ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের জন্য যথাযথ ভাবে ইন্টিমেসি কোর্ডিনেটর বা ডিরেক্টর নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।

এই চিঠি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত জানিয়েছেন, ”প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পাশাপাশি একজন মেয়ে হিসেবে চাইছি, অন্যায়ের প্রতিবাদ অবশ্যই হওয়া উচিত। আর এই নিয়ে যদি কমিটি তৈরির প্রস্তাব বাংলা বিনোদন দুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত নারীদের তরফ থেকে আসে, অবশ্যই বাকি সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসব।”

অন্যদিকে, আর্টিস্ট ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ”প্রথমে আনুষ্ঠানিক ভাবে চিঠিটি আমাদের হাতে বা দফতরে আসুক। তা হলে কথা বলতে সুবিধে হবে।”

চিঠিতে অপর্ণা সেন, শাশ্বতী গুহঠাকুরতা, অনুরাধা রায়, শকুন্তলা বড়ুয়া, চৈতালী দাশগুপ্তর মতো বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর নাম যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, অনন্যা চট্টোপাধ্যায়, দামিনী বেণী বসু, সোহিনী সরকার, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, দেবলীনা দত্ত, প্রিয়াঙ্কা সরকারদের নাম। এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে দামিনী জানান, খুবই সাধারণ কয়েকটি দাবি জানানো হয়েছে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়েছে। গোটা দেশে যা পরিস্থিতি। তার উপরে হেমা কমিটির রিপোর্ট। এমন পরিস্থিতিতে সকলের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। একজন ডাক্তার খুন হওয়ার পর তাঁকে ভিক্টিম ব্লেম করতে ছাড়ছে না লোকজন। এমন অবস্থায় স্টুডিওতে কোনও অভিনেত্রী খুন হলে, তাঁকে যে স্লাট শেমিং করা হবে না, সেটা নিশ্চিত করে বলা তো যায় না। তাই কথাগুলো বলা প্রয়োজন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
  • এই সমস্ত বিষয়ের প্রতিকারের দাবিই জানানো হয়েছে চিঠিতে।
  • এমন পরিস্থিতিতে সকলের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
Advertisement