১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ সিঙ্গাপুরের শো করতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিলেন অসমের ভূমিপুত্র জুবিন গর্গ। আগামী সেপ্টেম্বরেই জুবিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। তার আগে গায়কের স্মৃতিতে ২৫ ফুট দীর্ঘ 'গামোছা' বুনেছেন অসমের মহিলা তাঁতি ডালিমি লাহন গগৈ। যেখানে জায়গা করে নিয়েছে জুবিনের জনপ্রিয় গানের কলি। অসমের মানুষের সঙ্গে তাঁর গানের আত্মিক যোগ। এবার সেই জুবিন গর্গকেই সুতোর বাঁধনে জড়িয়ে রাখলেন এই অসমিয়া মহিলা।
না থেকেও আছেন জুবিন! ২৫ ফুটের 'গামোছা'য় গান বুনে অভিনব শ্রদ্ধার্ঘ্য অসমের তাঁতির। শব্দে স্বর বুনে তাঁর এই অভিনব ভাবনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রত্যেকে। জুবিনের গানের কথা বরাবরই তাঁকে অনুপ্রাণিত করত। সেই অনুপ্রেরণার সঙ্গে নিজের ভাবনাকে মিলিয়ে নানান নকশা বুনেছেন ২৫ ফুট দীর্ঘ এই 'গামোছা'য়।
শিল্পসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জুবিন গর্গের নয়টি জনপ্রিয় গানের লিরিক্সের পাশাপাশি রয়েছে তাঁর নয়টি স্মরণীয় উক্তি। যা নিজের হাতে বুনেছেন ডালিমি লাহন গগৈ। প্রিয় শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্মটির পিছনে নিরলস পরিশ্রম করেছেন।
জুবিনের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য
জানা যাচ্ছে, এই পঁচিশ ফুট গামোছাটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় পাঁচ মাস। জুবিন গর্গের মৃত্যুর একমাস পরই ডালিমি এই শ্রদ্ধার্ঘ্য বোনা শুরু করেন। তাঁর উদ্দেশ্য একটাই, শিল্পীর সঙ্গীত ঘরানাকে অসমের সমৃদ্ধ তাঁতশিল্প ঐতিহ্যের মধ্যে সংরক্ষণ করা। এই 'গামোছা'য় রয়েছে জুবিনের জনপ্রিয় গান 'মায়াবিনী', 'মোমোর শকতি জ্বলে', 'দিয়া ঘুরাই দিয়া', 'সপোন রঙ্গর টিকহা তুমি', 'রই রই বিনালে' এবং 'অন্ধ আকাশ'।
জুবিন গর্গের গানকে সুতোর বাঁধনে জড়িয়ে রাখলেন অসমিয়া মহিলা।
ডালিমি জানান, এই হাতে বোনা শ্রদ্ধার্ঘ্য জুবিন গর্গের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর সঙ্গীতের জনপ্রিয়তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। এই অনন্য শিল্পকর্মটি ইতিমধ্যেই স্থানীয় মানুষের ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। তাঁদের মতে, এটি অসমের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প এবং রাজ্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক আইকন জুবিন গর্গের চিরন্তন সঙ্গীত ঐতিহ্যের এক অসাধারণ মেলবন্ধন।
