সেলিব্রিটিদের জীবনে কখন যে কী ঘটে যায়! প্রসিদ্ধ সংগীতশিল্পীরা বিভিন্ন সময় ওয়ার্ল্ড ট্যুরে অংশ নেন। 'অউরা ওয়ার্ল্ড ট্যুর ২০২৬'-এর অংশ হিসেবে কানাডার ক্যালগরিতে গত ৩০ এপ্রিল পারফর্ম করেছিলেন পাঞ্জাবি গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্ঝ (Diljit Dosanjh)। কনসার্টের কয়েকদিন পর সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও ঝড়ের গতিতে ভাইরাল, যেখানে দেখা যাচ্ছে জনসমুদ্রের মাঝে দাঁড়িয়ে দিলজিতের দাবি, তিনি অনেক আগেই এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছেন! ঈশ্বরের কৃপায় তিনি আজ ভক্তদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। দিলজিতের মন্তব্যে তোলপাড় নেটভুবন। 'মৃত্যু' নিয়ে এহেন প্রতিক্রিয়ায় উদ্বিগ্ন ভক্তরা।
ইনস্টাগ্রামে এক ব্যক্তির প্রোফাইল থেকে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্টেডিয়াম যখন কানায় কানায় পূর্ণ তখন দিলজিৎ দর্শকদের উদ্দেশে কথা বলছেন। পাঞ্জাবি ভাষায় তাঁর বলা বক্তব্যের বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, "আমি তো অনেক আগেই এই পৃথিবী ছেড়ে দিয়েছি। মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না। গত ডিসেম্বর আমি এই শরীর ত্যাগ করার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু এখনও আমার কিছু কাজ বাকি আছে তাই আমাকে থাকতে হচ্ছে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এআমি আগেই এই পৃথিবী ছেড়ে দিয়েছি এটাই সত্যি আর আমি এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছি এটা আমার অন্তরের ঈশ্বর।
আরও বলেন, "আমার মৃত্যুভয় নেই, কারও প্রতি কোনো বিদ্বেষও নেই। আমি সবাইকে ভালোবাসি। ভালোবাসা, সম্মান আর ক্ষমা এসবই আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যাঁরা এখনো আমার সঙ্গে আছেন এটাই পাঞ্জাবের প্রকৃত পরিচয়। আমি পাঞ্জাবি। আপনাদের কী মত?" 'অউরা ওয়ার্ল্ড ট্যুর ২০২৬'-এ মেজাজ হারাতেও দেখা যায় দিলজিৎকে। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বিনয়ী শিল্পী হিসেবে পরিচিত, কিন্তু পাঞ্জাবি আইকন সমালোচক ও বিরোধীদের ওপর কেন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন?
ভাইরাল হওয়া অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু দর্শক তার বিরুদ্ধে পতাকা উড়িয়ে প্রতিবাদ করছেন। যদিও এই প্রতিবাদের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়, তবে কিছু নেটিজেনের মতে, তিনি 'দ্য টুনাইট শো উইথ জিমি ফলেন'-এ গিয়েছিলেন কিন্তু পাঞ্জাবের ভয়াবহ বন্যার সময় তাঁর দেখা মেলেনি। তাই পাঞ্জাবের একাংশ তাঁর উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। দিলজিৎ বিষয়টি উপলোব্ধি করে সমালোচকদের উদ্দেশে সাফাই, জাতীয় সংবাদমাধ্যম পাঞ্জাবকে উপেক্ষা করা হয় বলেই তিনি সেই শোতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে নিজের গান বা সিনেমা নয়, বরং পাঞ্জাবের কথা তুলে ধরেছেন।
নিজের 'মৃত্যু' নিয়ে অদ্ভুত মন্তচব্য দিলজিতের।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে যেখানেই যাবেন পাঞ্জাবের কথাই বলবেন। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দিয়েছেন তাঁর দল ইতিমধ্যেই বন্যাকবলিত এলাকায় সাহায্য পৌঁছে দিয়েছে। তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে আরও বলেন, তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তাঁদের আপত্তিকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করেন না। “যত খুশি পতাকা দেখাও” ধ্বনিতে স্টেডিয়ামে গর্জে ওঠেন যা দিলজিতের ভক্তদের অনুপ্রাণিত করেছে।
