হানিং সিং (Honey Singh), দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যিনি আন্তর্জাতিক স্তরেও বেজায় জনপ্রিয়। ব়্যাপারের দাপট, ব্যক্তিত্ব থেকে স্টাইল স্টেটমেন্ট, সবটাই অনুরাগীদের কাছে 'ব্যকরণ সম'! অতঃপর এহেন হানি সিং যখন পরচুলা ব্যবহারের কথা প্রথমবার ফাঁস করলেন, তখন সেটা নিয়ে যে শোরগোল হবে, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু কীভাবে এই হাল হল হানির?
একসময়ে মাদকের করাল গ্রাসে ডুবে নিজেকেই শেষ করতে বসেছিলেন হানি সিং। একাধিক সাক্ষাৎকারে খুব আক্ষেপের সুরে গায়ক বলতেন যে, "ড্রাগ আমাকে একেবারে নষ্ট করে দিয়েছে।" তবে নিজের চেষ্টায় শেষমেশ নেশামুক্ত হয়ে মূলস্রোতে ফিরতে পেরেছেন খ্যাতনামা র্যাপার। সম্প্রতি শিল্পীর এহেন ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পকেই পাঞ্জাবে মাদকবিরোধী প্রচারে তুলে ধরা হবে বলে জানা গিয়েছিল। এবার সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে হানি সিং এমন কথা বললেন, যা আগে কোনওদিন প্রকাশ্যে আনেননি।
খ্যাতনামা র্যাপারের কথায়, টানা সাত বছর নিজেকে ঘরের মধ্যে বন্ধ করে রেখেছিলেন তিনি। হানি বলেন, "আমি চাইনি, ভক্তরা আমাকে ওই অবস্থায় দেখুক। ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা তো দূরঅস্ত, কারও সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত ছিল না সেসময়ে।..."
হানি সিং। ফাইল ছবি
মাদকসেবনের জেরে তাঁর জীবনে কীভাবে কালমেঘ ঘনিয়ে এসেছিল? সেকথাই জানান হানি। খ্যাতনামা র্যাপারের কথায়, টানা সাত বছর নিজেকে ঘরের মধ্যে বন্ধ করে রেখেছিলেন তিনি। হানি বলেন, "আমি চাইনি, ভক্তরা আমাকে ওই অবস্থায় দেখুক। ছোটবেলার বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা তো দূরঅস্ত, কারও সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত ছিল না সেসময়ে। ফোন, ইন্টারনেট কিছুই ব্যবহার করতাম না। লোকে ভাবত, আমি বোধহয় 'শয়তান'-এর কবলে পড়েছি।" মানসিকভাবেও মারাত্মক ভেঙে পড়েছিলেন হানি সিং। নিজের মানসিক পরিস্থিতিও কাউকে বোঝানোর মতো অবস্থায় ছিলেন না তিনি। বাড়ির বাইরে বেরোতেন না। কারও সঙ্গে কথাও বলতেন না। লাগাতার তিন বছর নিজের ঘরের বাইরেও বেরননি। সবসময়ে ভয়ে ভয়ে থাকতেন। সেই অভিশপ্ত পর্বের স্মৃতি আউড়ে হানি জানান, "শৌচালয়ের দরজাও খোলা রাখতাম সবসময়ে। মনে হত আমি মরে যাব।" কিন্তু কেন? আসলে র্যাপার তখন বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন। যার জেরে সবসময়ে দৃষ্টিভ্রমে ভুগতেন!
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে রাতে খাবার এলে মনে হত, এটাই জীবনের শেষ খাওয়া। কিন্তু সাত বছরের চেষ্টায় 'নরকযন্ত্রণা' থেকে শেষমেশ মুক্তি পান। এহেন অতিরিক্তি মাদকসেবনের অভ্যেস কাটাতে কড়া ওষুধ খেতে হত হানি সিংকে। সেসময়েই বড়সড় বিপাকে পড়েন র্যাপার।
হানি জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাদকের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েন যে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরই তাঁর মাদকের প্রয়োজন হত। এমনকী রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগেও তিনি মাদক সেবন করতেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে রাতে খাবার এলে মনে হত, এটাই জীবনের শেষ খাওয়া। কিন্তু সাত বছরের চেষ্টায় 'নরকযন্ত্রণা' থেকে শেষমেশ মুক্তি পান। এহেন অতিরিক্তি মাদকসেবনের অভ্যেস কাটাতে কড়া ওষুধ খেতে হত হানি সিংকে। সেসময়েই বড়সড় বিপাকে পড়েন র্যাপার। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, "সাত বছর ধরে ওষুধ খেয়েছি। আমার ওজন তখন ১০৫ কেজি হয়ে গিয়েছিল। সব চুল পড়ে গিয়ে মাথায় টাক হয়ে যায়।" তবে কি স্টাইলিস্ট র্যাপার এখন পরচুলা পরেন? একবাক্যে নিজেই সেকথা স্বীকার করে নেন তিনি। হানি সিং জানান, "আমার পুরো মাথায় টাক। আমি আসলে এখন পরচুলাই পরি।" আর 'সুপারস্টার সিং'য়ের এহেন মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই 'থ' অনুরাগীরা। তাঁদের মন্তব্য, 'এতদিন তো ঘুণাক্ষরেও টের পাওয়া যায়নি যে আপনি পরচুলা পরেন!'
