চব্বিশ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন উৎসব মুখোপাধ্যায়। তবে রবিবার শেষমেশ পরিচালক-চিত্রনাট্যকারের হদিশ পাওয়া যায়। গত তিন সপ্তাহে বাংলা সিনেপাড়ায় নিঁখোজ উৎসবকে নিয়ে রীতিমতো ঝড় বয়ে গিয়েছিল। রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর টালমাটাল ইন্ডাস্ট্রির অনেক সদস্যই পরিচালককে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন! উৎসব কোথায় রয়েছেন, কী অবস্থায় রয়েছেন? এহেন যাবতীয় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল সিনেদুনিয়ার অন্দরে। অবশেষে সপ্তাহান্তে ছুটির দিনে স্বাস্তির খবর শোনালেন স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়।
"এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু আমার জানা নেই। আমাকে দয়া করে কিছুটা সময় দিন। বিস্তারিত জানতে পারলেই আমি আপনাদের সব জানাব। যাঁরা এই কঠিন সময়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সাহায্য করেছেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।"
গত ২ এপ্রিল ব্যাঙ্কের কাজে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি উৎসব মুখোপাধ্যায়। এরপরই স্বামীর খোঁজে পুলিশের দ্বারস্থ হন মৌপিয়া। কিন্তু গত তিন সপ্তাহে পরিচালকের হদিশ পাওয়া যায়নি। এবার অবশেষে জানা গেল, দিল্লিতে এক বন্ধুর বাড়িতে রয়েছেন উৎসব। রবিবার সকালে আচমকাই ওই বন্ধুর বাড়িতে পৌঁছেছেন তিনি। তবে এযাবৎকাল কোথায় ছিলেন, কীভাবে ছিলেন, সেসব স্পষ্ট করে কিছুই জানাননি বলে জানা গেল। খবর, স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে সোমবারই দিল্লি রওনা হবেন স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়।
সস্ত্রীক উৎসব মুখোপাধ্যায়। ছবি- ফেসবুক
পরিচালকপত্নী সোশাল মিডিয়ায় জানান, "উৎসবের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। ও এখন কলকাতার বাইরে একজন বন্ধুর সঙ্গে আছে। আমি ওকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য সেখানেই যাচ্ছি। এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু আমার জানা নেই। আমাকে দয়া করে কিছুটা সময় দিন। বিস্তারিত জানতে পারলেই আমি আপনাদের সব জানাব। যাঁরা এই কঠিন সময়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, সাহায্য করেছেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।" মৌপিয়া জানিয়েছেন, রবিবার সকালেই আনন্দপুর থানা থেকে তাঁর কাছে ফোন আসে এবং পুলিশ তাঁকে থানায় ডেকে পাঠায়। সেসময়েই এক পরিচিত ফোনে উৎসবের দিল্লিতে বন্ধুর বাড়িতে পৌঁছনোর খবর জানান। এরপর থানায় গিয়ে তিনি জানতে পারেন, লালবাজার থেকে আগেই আনন্দপুর থানায় খবর এসেছে এবং সেকারণেই তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল।
স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার পর সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে মৌপিয়া বলেছিলেন, "গত মে মাসে ওঁর মা গত হয়েছেন। তারপর হঠাৎ করেই বাবাও মারা যান। এই শোকটা ও আজও মেনে নিতে পারেনি। এছাড়াও অতীতে ঘটে যাওয়া সাইবার প্রতারণার বিষয়টাও ওঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। সবসময় বলত, আমার ইমেজটা নষ্ট করে দিল। এর একটা প্রভাব কাজের দুনিয়াতেও পড়েছিল। তাই ভাবছি ও কী নিজে থেকেই কিছুদিন নিরিবিলিতে একাকী থাকতে চাইছে!" এবার অবশেষে স্বস্তির খবর টলিউডে।
