ইন্দ্রনীল শুক্লা: বই-পাগল বাঙালি পাঠকরা অনেকেই পড়েছেন সমরেশ মজুমদারের থ্রিলার উপন্যাস ‘জালবন্দি’। সেই রুদ্ধশ্বাস, রোমাঞ্চপূর্ণ ও সম্পর্কের রসায়নে মোড়া কাহিনি নিয়েই নতুন ছবি ‘জালবন্দি’ তৈরি করেছেন পীযূষ সাহা । তবে প্রায় তিন দশক আগে সমরেশ মজুমদার যে ভাবে উপন্যাসটা লিখেছিলেন, হুবহু তা থাকছে না পর্দায়। কাহিনিকে করে তোলা হয়েছে অনেকখানি সময়োপযোগী। এ কাহিনি যখন লেখা হয়েছিল তখন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ দূরে থাক, সাধারণ মোবাইল ফোনও ছিল না। আর এই সময়কালের মধ্যে কর্পোরেট জগতের ধরনও বদলে গিয়েছে অনেকখানি। বেড়ে গিয়েছে গতি। দম ফেলার মতো সময়টুকুও নেই। এই যে মডার্ন গতির চাকা, তাতেই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে সমরেশ মজুমদারের উপন্যাসটিকে। ফলে সমরেশের কলমের কারণে যে থ্রিল, তা যেমন আছে, উপরি পাওনা এই কাহিনিকে হাল সময়ের মধ্যে উপলব্ধি করা। এমনটাই দাবি পরিচালক পীযূষ সাহার।
কর্পোরেট যুগে জীবনের চাপে প্রাণ ওষ্ঠাগত এক মধ্যবিত্ত ঘরের যুবক অনীশের কাহিনি রয়েছে ছবিতে। সে এক প্রাইভেট ইনসিওরেন্স কোম্পানির এজেন্ট। কোম্পানির টার্গেট পূরণ করে চাকরি বাঁচিয়ে রাখতে তাকে সারাক্ষণই বিসর্জন দিতে হয় জীবনের মূল্যবান সময়কে। টিকে থাকার লড়াই চালাতে গিয়ে পরিস্থিতির জালে বারবার আটকে পড়তে হয় তাকে । জাল ছিঁড়তে গিয়ে তাহলে বুঝি সত্যিই বদলে গেল সহজ-সরল ছেলেটা! কিছু না বুঝেই জড়িয়ে পড়ল নানা টানাপোড়েন আর বিপদের মাঝে! তা নিয়েই এগোবে ছবির গল্প।
[আরও পড়ুন: সোনম কাপুরের বাড়িতে চুরি, খোয়া গেল প্রায় ২ কোটি টাকা! ]
উল্লেখ্য, এর আগে পীযূষেরই হাত ধরে টালিগঞ্জে এসেছে ‘কেল্লাফতে’, ‘বাজিমাত’, ‘বেপরোয়া’, ‘তুলকালাম’, ‘রাজু আঙ্কল’, ‘নীল আকাশের চাঁদনি’-র মতো বক্স-অফিস সফল ছবি। পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক তারকারই অভিষেক ঘটেছে পীযুষের ছবিতে। সেই তিনিই এবার এই ছবির মাধ্যমে নিজের ছেলে অর্থাৎ প্রিন্স প্রাচুর্যকে বড় পর্দায় নিয়ে আসছেন। প্রিন্সের সঙ্গে রয়েছেন দর্শনা বণিক। এছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পাওয়া যাচ্ছে পায়েল সরকার, জুন মালিয়া, খরাজ মুখোপাধ্যায়, দীপঙ্কর দে, পুষ্পিতা মুখোপাধ্যায়, রণজয়,পম্পা সাহা প্রমুখ অভিনেতাকে। ‘প্রিন্স এন্টারটেনমেন্ট পি ফোর’ প্রযোজিত ছবিটির ক্যামেরায় গোপী ভগত, মিউজিক করেছেন অমিত-ঈশান।
পীযূষ সাহা বলছেন, “সমরেশ মজুমদারের মূল কাহিনি একই রেখে তাকে আধুনিক সময়ে এনে ফেলেছি। জীবনের গতি বেড়েছে, স্মার্ট ফোন মানুষকে ক্রমাগত দৌড় করাচ্ছে, কর্পোরেট কালচার মানুষকে যন্ত্র বানিয়ে ফেলছে, এই ব্যাপারগুলো কাহিনির মধ্যে বুনে দেওয়া হয়েছে। গল্পটা যখন লেখা তখন মোবাইল ফোনই ছিল না। পাশাপাশি এটাও সত্যি যে গল্পটায় যে ধরনের থ্রিলার এলিমেন্ট আছে, তা এক কথায় তুলনা নেই।”
প্রিন্স জানালেন, “বাবার পরিচালনায় কাজ করা অবশ্যই বড় পাওনা। এখনকার অনেক নামী স্টারই ইন্ডাস্ট্রিতে বাবার হাত ধরে এসেছেন। বাবা বাড়িতে যতটা বাবা, ফ্লোরে ততটাই ডিরেক্টর। একটু ভুল হলেই বকে। বাবা বলে ফ্লোরে কোনও ছাড় নেই ।” পীযূষ সাহার পরিচালনায় সমরেশ মজুমদারের থ্রিলার কেমন রূপ নিল তা জানতে অপেক্ষা আর সামান্যই। সব কিছু ঠিকঠাক এগোলে আগামী ২০ মে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এই ছবি।
