বড় প্রযোজক নেই, পরিচিত মুখ নেই, মোটা বাজেটও নয়। তবু সিনেমা তৈরির স্বপ্ন থেকে একচুলও সরেননি তরুণ নির্মাতা নির্মাল্য হালদার। মাত্র পাঁচ হাজার টাকা খরচে তৈরি করেছেন প্রায় দেড় ঘণ্টার পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছবি 'সংযোগ'। থ্রিলার, সাসপেন্স, সায়েন্স ফিকশন ও ড্রামার মিশেলে তৈরি এই ছবির ট্রেলার মুক্তি পাবে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে। কথায় বলে 'স্বপ্নের দাম লাখ টাকা'। সেই প্রবাদ সত্যি করেই নিজের স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে এগিয়েছেন নির্মাল্য।
পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগলে আগামী সেপ্টেম্বরেই প্রেক্ষাগৃহের আলো দেখবে নির্মাল্যর ছবি। বিএ এলএলবি-র দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নির্মাল্যের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে। পড়াশোনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ভিডিও এডিটিং, পোস্ট প্রোডাকশন এবং সংগীত প্রযোজনার কাজ করছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাকেই পুঁজি করে জন্ম নেয় পাঁচ হাজার টাকায় সিনেমা তৈরির ভাবনা।
ছবির পরিচালক নির্মাল্যর বন্ধু রীতেশ দত্ত। গল্পও তাঁরই লেখা। স্টোরিবোর্ড, সম্পাদনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত ছিলেন নির্মাল্যও। সংগীত, শব্দ পরিকল্পনা, সম্পাদনা এবং দৃশ্য নির্মাণের একাধিক ধাপে ব্যবহার করা হয়েছে এআই প্রযুক্তি।
মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার শুটিংয়েই শেষ হয়েছে সিনেমার কাজ। গত ২১ এপ্রিল ২৪ ঘণ্টার টানা শুটিং চলেছে ২৪ পরগনার গুমার বিভিন্ন এলাকায়। নির্মাল্যর ছবিতে অভিনয় করেছেন মাত্র ছয়জন অভিনেতা-অভিনেত্রী। প্রত্যেকের মিলিত অবদানেই তৈরি হয়েছে নির্মাল্যর 'সংযোগ'।
এই সিনেমায় একমাত্র পেশাদার অভিনেতা সুজয় হালদার। বাকিরা কেউ ক্যাবচালক ও তো আবার সেলুন ব্যবসায়ী, কেউ বহুজাতিক সংস্থার ডেটা এন্ট্রি কর্মী, কেউ ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত, কেউ আবার চাকরিপ্রার্থী। অভিনেত্রীকে ন্যূনতম পারিশ্রমিক দেওয়া হলেও এই ছবির সঙ্গে যুক্ত আর কেউ কোনও পারিশ্রমিক নেননি।
দর্শক মনে কতটা প্রভাব ফেলবে বা বক্স অফিসে কেমন ব্যবসা করবে সেটা তো সময় বলবে। তবে স্বল্প পুঁজি নিয়ে স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে স্থির থাকা নিঃসন্দেহে তরুণ প্রজন্মের সাহসীকতার নজির গড়েছে। নির্মাল্য-রীতশ ও কলাকুশলীদের পর্দার 'সংযোগ' বাস্তবেও আপামর দর্শকের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে পারবে কিনা সেটা তো সময় বলবে।
