এই পুজোয় মুক্তি পাবে শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের পরিচালনায় ছবি 'রক্তবীজ ২'। ২৬ সেপ্টেম্বর ছবি মুক্তি তার আগে একে একে ছবির টিজার, ট্রেলার ও সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির আইটেম সং দর্শকমনে ইতিমধ্যেই ঝড় তুলেছে। এই ছবি বড় পর্দায় মুক্তির প্রহর গুনছেন দর্শক। ছবির আইটেম সং 'অর্ডার ছাড়া বর্ডার ক্রস' গানে নায়িকা নুসরত লাজবাব। নতুন কাজ নিয়ে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের সঙ্গে আড্ডায় ধরা দিলেন নুসরত জাহান। শুনলেন বৃষ্টি ভাণ্ডারি।
'অর্ডার ছাড়া বর্ডার ক্রস করতে যেও না', হিট এই গানের মেকিং থেকে এই কাজ সম্পূর্ণ করা, কেমন ছিল সেই অভিজ্ঞতা?
...আমার কাছে যখন এই গানটায় কাজের প্রস্তাব আসে আমি তখন বাইরে। আমি আমার জন্মদিন উদযাপনে তখন বিদেশে বেড়াতে গিয়েছিলাম। সবে তখন শপিং মোড অন হয়েছে, দুবাই মল ঢুকব। ঠিক আগে শিবু দা (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) আমাকে ফোন করেন। দাদা আমাকে বলেন "আমি চাইছি 'রক্তবীজ ২'র একটা গান রয়েছে তুমি সেটাতে কাজ কর।" এরপর আমি ফিরে সেই কাজ নিয়ে বসি। কথা এগোয়। গানটা তৈরি হতে বেশ কিছুটা সময় লেগেছিল। জিনিয়া আর শিলাজিৎ মজুমদারের তৈরি এই গান। দারুণ গান বেঁধেছেন ওরা। গানের কথাগুলোও দারুণ। এরপর আসে কোরিওগ্রাফির পর্ব। আমি চেয়েছিলাম কোরিওগ্রাফিতে যেন মাটির গন্ধ থাকে। অন্য আর পাঁচটা আইটেম সংয়ের থেকে যেন আলাদা হয়। খুব ভালো কাজ হয়েছিল আর এখন গানটা হিট।
এমন একটা ডান্স নম্বার যেখানে বিনোদনও রয়েছে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও মিলেছে। এই দুটোর মেলবন্ধন ঘটানো বেশ কঠিন বিষয়।
...হ্যাঁ, সিনেমাটার বিষয়বস্তু হচ্ছে দুই বাংলা। সেখানে পরিচালকেরা গল্প অনুযায়ী এগোবেন। আর তাই সিনেমায় এই গানের প্রয়োজন ছিল বলেই তাঁরা তা ব্যবহার করেছেন। এটা শুধু আইটেম ডান্স নয় এর অন্তর্নিহিত অর্থও অনেকটা গভীর। তাই ছবির প্রয়োজন এই আইটেম সং প্রয়োজন ছিল বলেই প্রয়োগ করেছেন পরিচালকেরা।
এই ছবিতে আবারও মিমি-নুসরত ধরা দেবেন। তাহলে কি ফের বনুয়াদের রিইউনিয়ন হচ্ছে 'রক্তবীজ ২'তে?
...হ্যাঁ, অনস্ক্রিন রিইউনিয়ন তো হচ্ছেই। যেখানে বন্ধুত্ব থাকে সেখানে মনোমালিন্য হওয়াও খুব স্বাভাবিক। কিন্তু মনোমালিন্য হয়েছে বলেই যে তার তিক্ততার রেশ রয়ে গিয়েছে এমন নয়। আমি মিমির কাজ দেখি। 'রক্তবীজ' এর আগে দেখেছি। সেখানেও খুব ভাল কাজ করেছে ও। আমার খুব ভালো লাগছে আমরা ফের একসঙ্গে কাজ করছি। আমরা একইদিনে শুট করেছি এই ছবিতে খুব ভাল অভিজ্ঞতা। আসলে কিছুই এখানে পার্মানেন্ট নয়। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এরকম কিছু হয় না। তাই সময়ের উপর ছেড়ে দেওয়াই ভালো।
অনেকেই বলেন যে, নুসরত কি আজকাল ডুমুরের ফুল হয়ে গিয়েছে। নিজেদের প্রযোজনা সংস্থার বাইরে কি এখন আর সেভাবে কাজ করছ না?
...না, বিষয়টা এরকম নয়। এটা খুব সচেতনভাবেই আমার নিজের নেওয়া সিদ্ধান্ত। আসলে জীবনে ব্যালান্স করাটা আমার জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমি যখন সংসার করব, সন্তানকে সময় দেব তখনো আমি সেখানে একশো শতাংশ দেব। আর যখন কাজ করব তখন সেখানেও একশো শতাংশ দেব। কোনওটাতেই কম বা বেশি হবে না। সবটাই খুব দরকার ও মন দিয়ে করা দরকার।
ওটিটি এখন একটা বড় মাধ্যম, সেখানে কবে নুসরতকে দেখা যাবে?
...সত্যি কথা বলে ওটিটি আসার পর প্রচুর কাজের সুযোগ এসেছে। অনেকে কাজের অনেক সুযোগ পাচ্ছেন। আর আমার কথা বলা হলে বলতে হয়, আমি খুব মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসছি। বড় পর্দায় কাজ করার খিদে প্রথম থেকেই ছিল। তাই বড় পর্দায় কাজ করার পর আমার নিজেকে বিগ স্ক্রিন পার্সন বলে মনে হত। কিন্তু এখন মনে হয় ওটিটিতে কাজের যদি কোনও সুযোগ আসে এবং সেই চরিত্র যদি আমার মনের মতো হয় তাহলে নিশ্চয়ই আমি কাজ করব।
নুসরত ও অঙ্কুশের মধ্যে বরাবর একটা ঠাণ্ডা লড়াই চলে, এটা নিয়ে ঠিক কী মনে হয়?
...আমি কখনই এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করিনি। এটাই বলতে চাই আমি ও অঙ্কুশ একসঙ্গে অনেক কাজ করেছি। কাজটাকে আমি খুব সম্মান করি। অঙ্কুশ করেছে। আমি কাউকে নিয়েই কোনও সমালোচনা করি না। তাই আমি এটা নিয়ে বলতে পারব না। আমি এভাবে বেড়ে উঠিনি। এত নেতিবাচক বিষয়ের ভার বয়ে নিয়ে যাওয়া এভাবে আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
ঈশান কার বেশি আদরের?
...এখনকার বাচ্চারা খুব স্মার্ট। ঈশানও তাই। যখন ওর যা করতে ইচ্ছা করে সেই অনুযায়ী মা অথবা বাবাকে বেছে নেয়। সুইমিং করলে বা খেলার ইচ্ছা হলে ওর দোসর সবসময় বাবা। আর পড়াশোনার জন্য আমি রয়েছি। যেটা সবথেকে বোরিং কাজ। ঠিক ডিপার্টমেন্টাল জব'র মতো আমরা টিম করে নিই। আর আমার যখন মনে হয় কড়া হতে হবে, পড়াতে বসাতে হবে তখন আমি বাকি পাঁচজন মায়ের মতোই হয়ে যাই।
যশের সঙ্গে দাম্পত্য নিয়ে অনেক চর্চা, কেমন চলছে দাম্পত্যযাপন?
...সব ঠিক আছে, কোনও অসুবিধা নেই। এর বেশি কিছু বলতে চাই না এই নিয়ে।
শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের ছবিতে কবে অভিনয় করতে দেখা যাবে নুসরতকে?
...আমার মনে হয়, শিবুদা ও নন্দিতাদির সঙ্গে কাজের ইচ্ছা সব অভিনেতা-অভিনেত্রীর রয়েছে। তাঁরা যখন মনে করবেন কোনও চরিত্রের জন্য আমি পারফেক্ট নিশ্চয়ই আমাকে দেখা যাবে তাঁদের ছবিতে। তবে এখনই এই নিয়ে বলা মুশকিল। পুরোটাই সময়ের অপেক্ষা।
নিখিল জৈনের সঙ্গে দেখা হলে নুসরত কী বলবেন?
...আলাদা করে কিছু বলার নেই। আমাদের দেখা হয়েছে। সৌজন্য বিনিময়ও হয়েছে। আমি এখন সেই জায়গা থেকে এখন অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছি।
সম্প্রতি মমতা শঙ্করের একটা মন্তব্য ভীষণ ভাইরাল? এটা নিয়ে কিছু বলতে চান?
...না, আমি এটা নিয়ে কোনও কথা বলব না।
সাজ, পোশাক, চেহারায় বদল নিয়ে নানা কটাক্ষ ধেয়ে আসে। নুসরতকে এটা কতটা প্রভাবিত করে?
...আগে মনে হত অনেক কিছু। কিন্তু এখন এগুলো নিয়ে আর তেমন ভাবি না। আমার ঠোঁটে কটা ইঞ্জেকশন দিয়েছি বা ব্লাউজের কাট কতটা ডিপ এগুলো নিয়ে যেমন বলছে তেমনই ভালোতা বলার মানুষেরও অভাব নেই। কাজেই আগে অনেক কিছু মনে হত এখন মনে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে ভাবার কোনও কারণ নেই। কারণ সোশাল মিডিয়ায় যারা কটাক্ষ করছেন তাঁরা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। তাই এগুলি নিয়ে ভাবার অর্থ হয় না। তোমাকে মেনে নিতে হবে প্রতিপক্ষ সব জায়গাতেই থাকে। তাই এটা নিয়েই চলতে হবে। আর হ্যাঁ, অবশ্যই আমার বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে কি সমস্যা চলছে তা আমি বাইরে বলতে যাব না। আর সবাইকে বলব আপনারাও একটা সীমারেখা টানুন নিজদের চারপাশে যে ঠিক কতটা একজনকে বলবেন।
