পঙ্কজ ত্রিপাঠীর হাত ধরে সূচনা হল নতুন ব্র্যান্ড 'তুলা'র। এই ব্র্যান্ডের পোশাকের সঙ্গে জড়য়ে থাকবে অনেক স্মৃতি। স্থানীয় শিল্পীদের হাতের সুক্ষ্ম কারুকাজকে তুলে ধরবে এই নতুন ব্র্যান্ড। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা পঙ্কজর নতুন পথচলার সফর সঙ্গী স্টাইলিশ বিনীত চৌহান। বাংলা শব্দ 'তুলো' থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই নতুন ব্র্যান্ড তৈরির ভাবনা। শতাব্দীপ্রাচীন হ্যান্ডলুম বা তাঁতশিল্পের ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই ব্র্যান্ডের মূল লক্ষ্য।
'তুলা'র হাত ধরে ভারতসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কারিগর সম্প্রদায়ের জন্য একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। ভারতের তাঁতশিল্পের সঙ্গে পঙ্কজের ব্যক্তিগত সংযোগই তাঁকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন জার্নি শুরুর অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। দেশের বস্ত্রশিল্পের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ ও প্রসারিত করাই পঙ্কজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। পঙ্কজের সঙ্গী বিনীতও ভারতের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রশিল্প ও কারুশিল্পের প্রতি গভীর অনুরাগ পোষণ করেন।
তাঁতশিল্প বাঁচানোর উদ্যোগ
খাদি ও দেশীয় বস্ত্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের জন্য পরিচিত অভিনেতা পঙ্কজ ত্রিপাঠী। বহু বছর ধরে জনসমক্ষে তাঁর উপস্থিতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং বস্ত্র মন্ত্রকের সঙ্গে যৌথ সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতীয় হ্যান্ডলুম পণ্যের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। 'তুলো'র উদ্বোধন উপলক্ষে পঙ্কজ ত্রিপাঠী বলেন, “আমার কাছে তুলো শুধুমাত্র একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়। এটি একটি আবেগঘন যাত্রা এবং সেই অসংখ্য কারিগরের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি যাঁদের কঠোর পরিশ্রম, হাতের কারুকার্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভারতের বস্ত্রঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে।"
পঙ্কজের নতুন ব্র্যান্ড 'তুলা'
আরও যোগ করেন, "বছরের পর বছর শুটিংয়ের কাজে দেশের নানা প্রান্তে ভ্রমণের সময় আমি কাছ থেকে দেখেছি কতটা নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে তাঁতবুননের কাজ হয়। চন্দেরিতে শুটিং করতে গিয়ে দেখেছিলাম প্রায় প্রতিটি বাড়ির মহিলারাই তাঁতে শাড়ি ও কাপড় বুনছেন। বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছিল। এটি শুধুমাত্র জীবিকা নয় এক অনন্য জীবনধারা যা বংশ পরম্পরায় চলে আসছে। যখনই বারাণসীতে গিয়েছি আমি প্রায়ই তাঁতিদের মহল্লায় সময় কাটিয়েছি। সম্পূর্ণ হাতে তৈরি সূক্ষ্মবস্ত্র তৈরি দেখে মনে হতো যেন এক অলৌকিক শিল্পকর্মের জন্ম হচ্ছে। যন্ত্রনির্ভর যুগে আমি নিজেকে প্রশ্ন করতাম মানুষ কি এখনও হাতে কাপড় তৈরি করে? আর সম্ভবত ভারতের মতো এত বৈচিত্র্যময় ও জীবন্ত ঐতিহ্য পৃথিবীর আর কোথাও নেই। যত বেশি আমি এই জগতকে চিনেছি ততই আমার সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে।"
নতুন জার্নি
'তুলো'র মাধ্যমে পঙ্কজ ত্রিপাঠীর জীবনে যুক্ত হল আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। যার ভিত্তি সংস্কৃতি, স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন এবং ভারতের সমৃদ্ধ হ্যান্ডলুম ঐতিহ্যকে আগামী প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করার অঙ্গীকার। তাঁদের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নতুন সুযোগ তৈরিতে সামান্যও অবদান রাখা নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন পঙ্কজ। এই মর্মে অভিনেতার সংযোজন, "এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা অন্তত কিছু কারিগরের জন্য অর্থবহ সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি। আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে দেশীয় পণ্য বেছে নিতে অনুপ্রাণিত করতে পারি। সেটাই হবে আমাদের প্রকৃত সাফল্য।"
অভিনেতার সংযোজন, "তুলার মাধ্যমে আমরা ভারতীয় কারুশিল্পকে উদযাপন করতে চাই এবং এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই যা কারিগরদের প্রাপ্য স্বীকৃতি দেবে। আমরা চাই, মানুষ হাতে তৈরি পণ্যের প্রকৃত মূল্য বুঝুক এবং যত্নশীল ও সৃজনশীল কারুশিল্পের সৌন্দর্যের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত হোক। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এত মূল্যবান ঐতিহ্য রক্ষা করেও বহু তাঁতি সম্প্রদায় আজও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।"
