কর্নাটক নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা প্রকাশ রাজ। অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম মুছে দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধেই মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। দিন কয়েক আগে প্রকাশ রাজ (Prakash Raj) তাঁর সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে প্রকাশ জানান, কর্নাটকে এসআইআর (SIR) চলাকালীন বেঙ্গালুরুর ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত জবাবের দাবি জানান। পরে তিনি জানতে পারেন, বেঙ্গালুরু সেন্ট্রালের শান্তিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের তালিকায় তাঁর নামকে 'স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত' বলে দেখানো হয়েছে।
এরপর এক আধিকারিক তাঁর পুরনো বাড়িতে গিয়ে ভিডিও রেকর্ড করেন। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে প্রমাণের চেষ্টা করা হয় প্রকাশ রাজ ওই ঠিকানায় আর থাকেন না। এই বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত অপমানজনক বলে মনে হয়েছে। অভিযোগ, ঘটনাটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তিনিই ভুল তথ্য দিয়েছেন। এরপরই ভিডিওবার্তায় ক্ষোভ উগরে দেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের ব্যাঙ্গাত্মক উপস্থাপন, "বন্ধুরা, সাথীরা। কর্নাটকের নির্বাচন কমিশনের কাছে আমার কয়েকটি প্রশ্ন আছে। এটা কি সত্যি নয় যে আপনারা ওয়েবসাইটে আমার ভোটার আইডি 'স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত' হয়েছে বলে দেখিয়েছিলেন? যার অর্থ আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং আমাকে ফর্ম সিক্স পূরণ করে নতুন ভোটার আইডির জন্য আবেদন করতে হবে?"
আরও বলেন, বিষয়টি তিনি প্রকাশ্যে আনার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা তাঁকে ফোন করে জানান একটি ভুল হয়েছে এবং তাঁরা অবশ্যই সংশোধন করবেন। এই মর্মে প্রকাশের বক্তব্য, "আপনারা আমাকে অনুরোধ করেছিলেন আপনারা ভুল শুধরে নিয়েছেন সেবিষয়টি যেন আমি সমাজমাধ্যমে বলি। আমার কাছে সমস্ত কল রেকর্ড রয়েছে।"
কিন্তু, সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সাংবাদিক বৈঠক করে নিজেদের বক্তব্য বদলে দেয়। তাঁর নাম 'স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত' থেকে শুধু 'স্থানান্তরিত' করা হয়েছে। আধিকারিকরা একটি সরেজমিন তদন্ত করেছে। প্রকাশের কথায়, "আপনারা বলছেন যে আমার নাম বাদ দেওয়া হয়নি। আপনারা মিথ্যা বলছেন।"
প্রকাশ রাজ বলেন, "আমি একজন সেলিব্রিটি। আপনারা একজন সাধারণ নাগরিকের সঙ্গেও এমন করবেন? আমি আমার কাজের জন্য সেলিব্রিটি। কিন্তু একজন নাগরিক হিসেবে আমার সমানাধিকার রয়েছে। এই লড়াই একজন নাগরিকের মর্যাদা নিয়ে। যে নাগরিককে ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়।" ভবিষ্যতে আরও ভিডিও, সাংবাদিক বৈঠক করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেতা।
তাঁর মতে, "প্রতি পাঁচ বছরে একবার আপনারাই ভোট চাওয়ার জন্য নাগরিকদের কাছে আসেন, কারণ আপনারা জানেন নাগরিকদের ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। আর এখন সেই একই নাগরিকদের লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে? এটা কী ধরনের নাটক? এটা কী ধরনের রাজনীতি? এর পেছনে কী উদ্দেশ্য? শুধু জানতে চাই।"
