বৃহস্পতিবার বিকেল। নবান্নে এসে থামল 'ইন্ডাস্ট্রি' প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের গাড়ি। নবান্ন চত্ত্বরে প্রসেনজিতের উপস্থিতি ঘিরে রাজ্যরাজনীতি থেকে সিনেমহল একেবারে সরগরম। সোমবার বিকেলে ‘পদ্মশ্রী’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বালিগঞ্জের বাড়ি 'উৎসব'-এ আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শাহী সাক্ষাতের ঠিক দু'দিন পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই কৌতুহলের পারদ চড়েছে। ওয়াকিবহালমহলের প্রশ্ন, বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রসেনজিতের এহেন ঘন ঘন সাক্ষাৎ আদতেই সৌজন্যমূলক নাকি নেপথ্যে রাজ্যসভার আসন তত্ত্ব? গেরুয়া শিবিরের পথে পা বাড়ালেন প্রসেনজিৎ? সকলের মনে যখন একাধিক প্রশ্ন দানা বাঁধছে তখন নিজেই সাক্ষাতের নেপথ্য কাহিনি খোলসা করলেন মেগাস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়।
নব্বান্ন থেকে বেরতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি অভিনেতা। প্রত্যেকের মুখেই একই প্রশ্ন, কী কারণে এই বৈঠক? সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রসেনজিৎ বলেন, "আমার নবান্নে আসা ঘিরে যে চর্চা হচ্ছে সেটা একেবারে ভিত্তিহীন। আমি আমার ইন্ডাস্ট্রির ভালোমন্দ নিয়ে আলোচনা করতে এসেছি। কীভাবে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির আরও উন্নতি হবে সেটা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। নবান্নে আসার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই।"
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নে সাক্ষাৎ
আজকের বৈঠকে স্টুডিওপাড়ায় আগামীদিনে নতুন কমিটি গঠনের ইঙ্গিতও মিলেছে।ইন্ডাস্ট্রির প্রয়োজনে যদি কোনও কমিটির সদস্যপদ দেওয়া হয় তাহলে সেটা গ্রহণ করবেন? বৈঠকে এই প্রশ্নের উত্তরে প্রসেনজিতের জবাব, "আমি এই ইন্ডাস্ট্রির অংশ। দীর্ঘদিন বাংলা সিনেমার যুক্ত। যদি ওঁরা আমাকে কোনও পদ দেন তাহলে ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে নিশ্চয়ই গ্রহণ করব। আমাদের প্রত্যেকেরই একটাই লক্ষ্য, টলিউডের উন্নতি।"
'ইন্ডাস্ট্রি' প্রসেনজিৎ
এরপরই মোক্ষম প্রশ্ন ছুড়ে দিল সাংবাদমাধ্যম। এবার তাহলে রাজ্যসভার আসন পেতে চলেছেন? এক মুহূর্ত চুপ না থেকে প্রসেনজিতের সপাট জবাব, "রাজনীতি নিয়ে দয়া করে কোনও প্রশ্ন করবেন না। ইন্ডাস্ট্রির সদস্য হিসেবে কথা বলতে এসেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন জায়গায় টিম নিয়ে শুটিংয়ে যাই। সেখানে অনেকরকম সুবিধা-অসুবাধার সম্মুখীন হই। সেগুলো নিয়েই আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই।"
