বৃহস্পতিবার দিল্লি উচ্চ আদালতে রাজপাল যাদবের জামিন খারিজের পরই মুখ খুললেন অভিনেতার আইনজীবী ভাস্কর উপাধ্য়ায়। তিনি জানিয়েছেন, ৯ কোটির চেক বাউন্স মামলায় ইতিমধ্যেই অর্ধেক বকেয়া মিটিয়ে ফেলেছেন তাঁর 'তারকা মক্কেল'। যদিও এদিন মামলাকারী সংস্থা অভিনেতার জামিন আবেদনের শুনানি মুলতুবির আর্জি জানায়। সেই প্রেক্ষিতেই সোমবার পরবর্তী শুনানির দিকে চেয়ে রাজপাল যাদবের আইনি প্রতিনিধি। ঠিক কী জানালেন তিনি?
স্ত্রী রাধা যাদব বলছেন, “প্রায় গোটা ইন্ডাস্ট্রি সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে। আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।”
ভাস্কর উপাধ্যায়ের মন্তব্য, "রাজপালের ম্যানেজার তিহাড় জেলে গিয়ে ওঁর সঙ্গে দেখা করবেন এবং বাকি বকেয়া টাকা কীভাবে মেটানো হবে, সেই সম্পর্কিত আলোচনা করবেন।" তাঁর সংযোজন, টাকা ধার নিয়ে যে বিনিয়োগ করা হয়েছিল, তা অস্বীকার করা হয়নি। এর আগেও যখন টাকার কথা উঠেছিল, তখন মামলাকারী সংস্থা টাকা নিতে অস্বীকার করে। ২০১২ সালে উভয়পক্ষের যে চুক্তি হয়েছিল, সেই লেনদেনের হিসেবের সমঝোতা করতে করতেই তিন মাস কেটে গেল। রাজপাল যাদবকে আসলে কে টাকা দিয়েছেন? সে সম্পর্কে আমি কিছুই বলতে পারছি না। এসব পারিবারিক বিষয়। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে জেলে যাব এবং কীভাবে কী করা যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা কর ওঁর সঙ্গে। যতটা জানি, এখনও পর্যন্ত পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে আড়াই কোটি টাকা মেটানো হয়েছে। এবার দেখা যাক, সোমবার আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়।"
২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপালকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল। ফাইল ছবি।
খবর, ‘বাড়িতে দাদার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান রয়েছে’ বলে কোর্টের কাছে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন রাজপাল। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে উচ্চ আদালতে পালটা ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতাকে। বিচারপতি স্বর্ণা কান্তের বেঞ্চের তরফে রাজপালকে বলা হয়, “আপনি এর আগে অন্তত ২৫-৩০ বার হাজিরা দিয়েছেন। আপনাকে একজন সিনিয়র আইনজীবীও সহায়তা করেছিলেন। তিনি আপনার হয়ে কোর্টকে বলেছিলেন, আমার মক্কেল বিদেশে গিয়ে কিছু টাকা উপার্জন করে বকেয়া মিটিয়ে দিতে পারে। তাই আপনাকে যে ভুল পথে চালিত করা হয়েছে, সেই দাবি আপনি করতে পারবেন না। উপরন্তু অভিযোগকারী কোম্পানির পাওনা মেটাতেও কয়েক বছর ধরে দেরি করেছেন। পাশাপাশি চেক বাউন্সের মামলায় আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তিও করতে পারেননি।” পরবর্তী শুনানি অবধি আপাতত ৯ কোটির চেক বাউন্স মামলায় তিহাড় জেলেই থাকতে হবে রাজপাল যাদবকে।
২০১০ সালে ‘আতা পাতা লাপাতা’ সিনেমার জন্য মুরালি প্রজেক্ট নামে দিল্লির এক সংস্থার থেকে ৫ কোটি টাকা ধার করেছিলেন অভিনেতা। সেই ছবির বক্স অফিসে ভরাডুবি হওয়ায় টাকা ফেরত দিতে পারেননি তিনি। ফলত, মামলা গড়ায় আদালত অবধি। এদিকে বকেয়া না মেটাতে পারায় কৌতুকাভিনেতার গ্রেপ্তারির খবর প্রকাশ্যে আসার পরই একজোট হয়ে বলিউড অর্যসাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। এপ্রসঙ্গে অভিনেতার ম্যানেজার গোল্ডি বুধবার জানিয়েছিলেন, “সোনু সুদ, সলমন খান এবং অজয় দেবগনের মতো তারাকারা বলেছেন- ‘পাশে আছি’। এই একটু আগেই পরিচালক ডেভিড ধাওয়ানের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। উনিও সাহায্য করতে চেয়েছেন। রতন নৈন, বরুণ ধাওয়ান…অনেকেই ফোন করেছেন আমাকে আর্থিক সাহায্য করবেন বলে। বলিউডের এরকম সাড়ায় মনে বল পেয়েছেন রাজপালও।” মিকা সিং, গুরু রানধাওয়া, অনুপ জলোটাও আর্থিক সাহায্য করেছেন। বলিউডের তরফে এমন বিপুল সাড়া পেয়ে আপ্লুত রাজপালপত্নীও। স্ত্রী রাধা যাদব বলছেন, “সবাই আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রায় গোটা ইন্ডাস্ট্রি সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছে। আপনাদের সকলকে অনেক ধন্যবাদ।” সেই টাকাতেই কি অর্ধেক বকেয়া মেটানো হল? সোমবারই সেই উত্তর মিলবে বলে আকার-ইঙ্গিতে বোঝালেন আইনজীবী।
