দিন তিনেক আগেই বন্যাবিধ্বস্ত নেপালে সদলবলে ত্রাণ নিয়ে পৌঁছেছেন সোনু সুদ। আর যেতে না যেতেই কটাক্ষের শিকার হতে হল দুস্থদের 'মসিহা'কে! তবে রোষানলে পড়লেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে ভোলেননি অভিনেতা। বরং পালটা নিন্দুকদের আহ্বান জানিয়েছেন নেপালকে ফের একসঙ্গে সারিয়ে তুলতে।
দুর্যোগের দিনে সোনু সুদ বরাবরই ত্রাতা। কোভিড কাল থেকেই ঈশ্বরের দূতের মতো দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাম্প্রতিক হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপালের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। সোশাল মিডিয়া পোস্টে সোনু জানিয়েছিলেন, 'নেপাল, তুমি একা নও। আমরা খাবার, যাবতীয় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে আসছি। তোমরা যাতে ফের উঠে দাঁড়াতে পারো সেই কামনা করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করব।' সেই প্রতিশ্রুতি রাখতেই গত মঙ্গলবার দুপুরে 'সুদ চ্যারিটি ফাউন্ডেশন'-এর সদস্যদের নিয়ে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে পা রাখেন অভিনেতা। পৌঁছনোর পরই বন্যাবিধ্বস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করতে যান সোনু সুদ। সেখান থেকে সেসব ক্যামেরাবন্দি মুহূর্ত ভাগ করে নিতেই রোষানলে পড়তে হল অভিনেতাকে। জনৈক সাংবাদিক সোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে লেখেন, "এটা যদি সোনু সুদের মার্কেটিং না হয়, তবে আর কী? নেপালে এসেই সেখানকার শিশুদের 'অভিভাবক' বনে গেলেন। কাজ তো এখনও শুরুই করেননি, অথচ নিজেকে 'ঈশ্বর' বানানোর প্রচার শুরু করে দিয়েছেন।" এহেন কটাক্ষের মুখে পড়ে যদিও মেজাজ হারাননি অভিনেতা পালটা ওই সাংবাদিককে যৌথ উদ্যোগে নেপালের ক্ষত সারানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
নেপালে ত্রাণ বিলোতে গিয়ে কটাক্ষের শিকার সোনু সুদ,
ওই সাংবাদিককে 'ভাই' সম্বোধন করে সোনু সুদ লেখেন, 'আপনি ভালো মানুষ, ভাই! নেপালে চলে আসুন, আমরা দুই ভাই মিলে একসঙ্গে কাজ করব।' আর অভিনেতার এহেন জবাবেই অনুরাগীরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ। পৌঁছে কাঠমান্ডুতে দাঁড়িয়েই সোনু সুদ বলেছিলেন, "আমার মনে হয়, সকলেরই নিজস্ব সামর্থ অনুযায়ী এগিয়ে আসা উচিত। আমরা প্রচুর কম্বল, খাদ্য-সহ নানা ত্রাণসামগ্রী এনেছি। তাদের কী প্রয়োজন সেটাও নিয়মিত খোঁজ নিচ্ছি এবং ভারত থেকে সেসব পাঠানোর চেষ্টা করছি। তবে ভারত থেকে নেপালে ত্রাণ পাঠানো বেশ চ্যালেঞ্জিং, কারণ এর জন্য প্রচুর লোকবলের প্রয়োজন হয়।" বিধ্বস্ত নেপালের উদ্দেশে 'মসিহা'র আশ্বাস, "শুধু এমাসেই নয়, বরং ক্ষত না সেরে ওঠা পর্যন্ত আগামী মাসগুলিতেও ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত থাকবে।"
