বাংলা থিয়েটার থেকে বিকল্প ধারার নাট্য আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন পঙ্কজ মুন্সী। তাঁর জীবনাবসান থিয়েটার ও অভিনয় জগতের অপূরণীয় ক্ষতি। বার্ধক্যজনিত শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু, শেষ রক্ষা হল না। না ফেরার দেশে বিশিষ্ট নাট্যকার ও অভিনেতা পঙ্কজ মুন্সী। তাঁর প্রয়াণে একটি যুগের অবসান ঘটল।
শহরের এক বেসরকারি হাসপাতালে রবিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান শিল্পী। সংস্কৃতির আঙিনায় তাঁর মতো এক প্রতিবাদী মুখের মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন টলিপাড়া থেকে নাট্যমঞ্চ। পরিচালক অয়ন চক্রবর্তী, অভিনেতা দেবপ্রতীম দাশগুপ্ত প্রয়াত শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন। পরিচালক অয়নের শ্রদ্ধার্ঘ্য, 'বছর দুই আগে। একটা ওয়েব সিরিজের শুট শুরুর প্রস্তুতি চলছে। আমার এক সহকারী বলল, পঙ্কজবাবু তোমার নম্বর চাইছেন, দেব? সম্মতি জানালাম। যে সিরিজের প্রস্তুতি চলছিল তাতেই একটা চরিত্রে অভিনয় করার কথা তাঁর। জানতাম যে ওঁর সিনগুলোর স্ক্রিপ্ট পেয়ে গিয়েছেন। ভাবলাম, সেই নিয়েই কিছু আলোচনা করবেন। ফোন করলেন। বললেন, অয়নবাবু, আপনাকে বিরক্ত করার জন্য দু:খিত। কিন্তু বয়স হয়েছে তো সংযম কমেছে। ইদানিং লোভ সামলাতে কষ্ট হয়। কথা বলে জানলাম, নিজের সিনগুলো পড়ে পুরো স্ক্রিপ্টটা পড়ার ইচ্ছে হয়েছে তাঁর তাই ওই ফোন। তারপর আরো আরও দীর্ঘ কথোপকথন হয়েছে। এই প্রান্তে আমি, অয়নবাবু আপনি থেকে অয়ন, তুমি হয়েছি। ঐ প্রান্তে উনি পঙ্কজবাবু আপনি থেকে পঙ্কজদা আপনি হয়েছেন। শরীর অশক্ত হয়েছিল, শ্রবণশক্তি কিঞ্চিৎ দুর্বল হয়েছিল। কিন্তু অভিনয়প্রতিভা ছিল অমলিন, নিষ্ঠা ছিল অটুট, কাজের খিদে ছিল অপরিসীম। মারা গেলেন পঙ্কজ মুন্সী। শিখিয়ে গেলেন অনেক কিছু।'
অভিনেতা দেবপ্রতীম দাশগুপ্ত প্রয়াত শিল্পীর পরিবারের সঙ্গে ছবি শেয়ার করে শোকজ্ঞাপন বার্তায় লিখলেন, 'আবার একটা ছায়া হারানোর দিন। কতই বা বয়স আমার তখন? সাত কি আট। আপনার নির্দেশনায় ঋণশোধ নাটকে অভিনয়। অন্য লোকে ভালো থাকুন পঙ্কজ কাকু। সাবধানে থেকো।' মঞ্চের গণ্ডি পেরিয়ে সিনেমাতেও রেখে গেলেন তাঁর গভীর অভিনয় ছাপ। ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ এবং ‘শজারুর কাঁটা’র মতো চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় চিরকাল দর্শকের হৃদয়ে গেঁথে থাকবে। অর্ধাঙ্গিনী খ্যাতনামা অভিনেত্রী তপতী মুন্সী এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সহকর্মীরা।
