ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করেও 'ব্রাত্য'। অপেক্ষায় থেকে থেকে 'বিদ্রোহ' শুরু করেছিলেন সরফরাজ খান। অবশেষে ফের জাতীয় দলে ডাক পেলেন মুম্বইকর ব্যাটার। মাঝে প্রায় তিনবছর ধারাবাহিক রান করেছেন। একসময় তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হত। সেই 'কুৎসা' ঘোচাতে ১৭ কেজি ওজন কমিয়েছেন। আলাদা করে কাশ্মীরে গিয়ে অনুশীলন করেছেন। তারই সুফল পেলেন সরফরাজ।
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজে পাওয়া যাবে না সাই সুদর্শনকে। তাঁর পরিবর্ত হিসাবে সরফরাজ খান ডাক পেলেন। রনজি হোক বা বিজয় হাজারে ট্রফি, তিনি আগুনে ফর্মে ব্যাট করেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬২টি ম্যাচে প্রায় ৬৪.৭৩ গড়ে রান করেছেন। ২০২৪-এ মাত্র ৬টি টেস্ট খেলার সুযোগ পান। ৩৭১ রান করেন। সর্বোচ্চ ছিল ১৫০। তারপর আর ভারতীয় দলে ডাক পাননি। তবে সরফরাজ লড়াই ছাড়েননি। ঘরোয়া সাদা বলের ক্রিকেটে স্ট্রাইক রেট বাড়িয়ে খেলেন। যে কারণে আইপিএলেও দল পান।
গত দেড় বছরে ১৭ কেজি ওজন কমিয়েছেন। ফিল্ডিংয়ের মান বাড়িয়েছেন। এর মধ্যে অনুশীলন করতে চলে যান কাশ্মীরে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাশ্মীরের শের-ই-কাশ্মীর স্টেডিয়ামে অনুশীলন করেন। কেন? কারণ, ওই সময় মুম্বইয়ে প্রবল বৃষ্টি চলছিল। তাই সেখানে অনুশীলন করা সম্ভব ছিল না। কাশ্মীরে নেট বোলারদের পাশাপাশি রাজ্য দলের কয়েকজন ছেলের বিরুদ্ধেও অনুশীলন করেন। মুম্বইয়ে ফিরে ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ইনডোরে অ্যাস্টো টার্ফে ব্যাটিং করেন। জায়গা ভাড়া করে লাল মাটির পিচ তৈরি করে অনুশীলন চালিয়ে যান।
অবশেষে জাতীয় দলে ফের ডাক পেলেন। স্পিন ভালো খেলেন। যে কারণে ধ্রুব জুরেলকে টপকে দলে জায়গা করে নিতে পারেন। ঘটনাচক্রে দলে ডাক পাওয়ার দিন দুয়েক আগেই 'বিদ্রোহ' ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার সরফরাজ ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করেন। তবে নিজের ছবি নয়, ২০১৯ সালে তেলুগু ‘জার্সি’ সিনেমার একটি ছবি পোস্ট করেন। যেখানে লেখা ছিল, ‘আমি হয়তো তোমাদের অঙ্কে ঢুকতে পারছি না। কিন্তু আমি সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করব।’ অর্থাৎ যেন বলতে চাইলেন, দলে সুযোগ না পেলেও লড়াই চালিয়ে যাবেন। তার পরপরই সুদর্শনের চোটের খবর প্রকাশ্যে আসে। তারপরই ডাক পেলেন সরফরাজ।
