বাংলাদেশ: ৬৪ ও ৯৫ (নাজমুল ৩১, মুশফিক ২৯*, স্টার্ক ৪/৩৯, কামিন্স ৩/১০)
অস্ট্রেলিয়া: ২১০ (গ্রিন ৬৭, স্মিথ ৪২, শরিফুল ৭/৪৮)
অস্ট্রেলিয়া ইনিংস ও ৫৮ রানে জয়ী।
আগের ম্যাচে একপ্রকার অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট হারানো। কিন্তু ওই টেস্ট জয়ের মাধ্যমে ওপার বাংলার টাইগাররা আরও একটা কাজ করে ফেলেছিলেন, সেটা হল অজিদের জাত্যাভিমানে আঘাত। যার প্রতিঘাত যে দ্বিতীয় টেস্টে আসবে, জানাই ছিল। সেই প্রতিঘাত আর সামলাতে পারলেন না টাইগাররা। মিচেল স্টার্কের আগুন পেসে পুড়ে ছারখার হয়ে গেল বাংলাদেশ। ম্যাকেতে মাত্র দেড়দিনে এক ইনিংস-সহ ৫১ রানে হারল ওপার বাংলার টাইগাররা। দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ হল ১-১ সমতায়।
এই ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তরতাজা অজি পিচে, দিনের শুরুতে স্টার্কের হাতে নতুন বল। এই ‘বিভীষিকা’ সামলানোর ক্ষমতা বাংলাদেশের ব্যাটারদের প্রথম ইনিংসেও ছিল না। দ্বিতীয় ইনিংসেও পারলেন না লিটন, শান্তরা। গতি, বাউন্স, সুইংয়ে প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিমদের ধ্বংস করতে স্টার্কের লাগে মাত্র ৪২ মিনিট। দ্বিতীয় ইনিংসে সময় কিছুটা বেশি লাগলেও ফলাফল একই। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশ অলআউট হল ৯৫ রানে। এই প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই একশো'র নিচে অলআউট হলো বাংলাদেশ।
প্রথম দিন বাংলাদেশের ৬৪ রানের জবাবে অজিরাও খুব ভালো ব্যাট করেছিল তেমন নয়, দিনের শেষে তাঁরাও ৮ উইকেট খুইয়ে বসেছিল। রানের খাতায় ছিল ১৬৫। দ্বিতীয় দিন সকালে শেষ দুই অজি ব্যাটার আরও ৫৫ রান যোগ করলেন। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষ হল ২১০ রানে। তাতেও প্রথম ইনিংসে অজিরা দেড়শোর বেশি লিড পায়। অনেকে হয়তো সেসময় প্রত্যাশা করেছিলেন, বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা ভালো ব্যাট করে অন্তত ইনিংস হারের লজ্জা বাঁচাবে। কিন্তু কোথায় কী! দ্বিতীয় ইনিংসেও একই ছবি। এবার টাইগাররা অল আউট হলেন ৯৫ রানে। আবারও সেই স্টার্কের আগুন। দোসর কামিন্স। স্টার্ক এবার তুললেন ৪ উইকেট। ৩ উইকেট পেলেন কামিন্স। বাংলাদেশের ৩ ব্যাটার করলেন শূন্য। আটজন আউট সিঙ্গল ডিজিট রানে। শেষ মেশ দুই ইনিংস মিলিয়ে টাইগাররা তুললেন ১৫৯ রান।
এই প্রথম দু'দিন শেষের আগেই টেস্ট হারল বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে স্টার্ক একাই নিলেন ১০ উইকেট। বাংলাদেশের শরিফুলও প্রথম ইনিংসে সাত উইকেট পেয়েছিলেন। সেটা কার্যত জলে গেল।
