অবশেষে থামল স্পেনের জয়রথ! ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দেশের কাছে হারতে হল লামিনে ইয়ামালের দেশকে। তবে এ লড়াই ফুটবল মাঠে নয়, ২২ গজে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা ২৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর হারের মুখ দেখল স্পেন। পর্তুগালের কাছে ৫৭ রানে হেরে গেল তারা। এই জয়ের সুবাদে ২০২৭ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইউরোপীয় কোয়ালিফায়ারে জায়গা পাকা করে নিল পর্তুগাল।
হারের ফলে হাতছাড়া হল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টানা অপরাজিত থাকার সর্বকালের নজির ছোঁয়ার সুযোগও। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫১ সালের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটে টানা ২৫ ম্যাচ অপরাজিত ছিল অস্ট্রেলিয়া। আবার ২০০৯-১০ সালে রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বে সব ফরম্যাট মিলিয়ে টানা ২৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নজির গড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে টানা জয়ের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই ইতিহাস গড়েছে স্পেন। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার গড়া টানা ২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ভেঙে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত টানা ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতেছিল তারা। ফুটবল, টেনিসের মতো খেলায় যে দেশের পরিচিতি বেশি, সেই স্পেনের ক্রিকেটে এমন দাপট তাই চমকপ্রদ।
পর্তুগালের সাফল্যের নেপথ্যে বড় ভূমিকা অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অলরাউন্ডার মোজে হেনরিকসের। সম্প্রতি অবসর নেওয়ার পর পর্তুগালের জাতীয় দলে যোগ দেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বেই বাছাইপর্বে দুরন্ত ছন্দে দেখা যায় পর্তুগালকে। টানা পাঁচটি ম্যাচ জিতে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন তারা। ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৬০ রান তোলে পর্তুগাল। গোটা টুর্নামেন্টে ১৯০-এর বেশি রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও হেনরিকস।
জবাবে ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পর্তুগিজ বোলিংয়ের সামনে কার্যত আত্মসমর্পণ করে স্পেন। মাত্র ১০৩ রানেই শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস। বল হাতে দুর্দান্ত ভূমিকা নেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাঁহাতি স্পিনার সিরাজ উল্লা খাদেম। চার ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে দুই উইকেট তুলে নিয়ে স্পেনের ব্যাটিংয়ে ধস নামান তিনি। ঐতিহাসিক জয়ের ফলে ২০২৭ সালের মূল ইউরোপীয় কোয়ালিফায়ারে জার্সি, ডেনমার্ক ও স্কটল্যান্ডের সঙ্গে জায়গা করে নিল পর্তুগাল। সেখান থেকে ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারে ওঠার সুযোগ থাকবে তাদের সামনে। ইউরোপ অঞ্চল থেকে ইটালি ও নেদারল্যান্ডস ইতিমধ্যেই সরাসরি গ্লোবাল কোয়ালিফায়ারের টিকিট কেটে ফেলেছে।
